নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ০২:২৮:৫৯
আর্কটিকে রুশ ‘হুমকি’ মোকাবিলায় নরওয়েতে বৃটেনের দ্বিগুণ সেনা
বৃটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, উত্তর মেরু অঞ্চল বা ‘হাই নর্থ’-এ রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় আগামী তিন বছরে নরওয়েতে মোতায়েনকৃত বৃটিশ সেনার সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। আর্কটিক অঞ্চলের দেশ নরওয়েতে বর্তমানে প্রায় ১০০০ বৃটিশ সামরিক সদস্য অবস্থান করছে। তা বাড়িয়ে ২০০০ করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে রাশিয়ার আর্কটিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মস্কো সেখানে পুরোনো শীতল যুদ্ধকালীন সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করছে এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
হিলি বলেন, প্রতিরক্ষার ওপর চাপ বাড়ছে এবং শীতল যুদ্ধের পর এই প্রথম আর্কটিক ও হাই নর্থ নিরাপত্তার জন্য রাশিয়া সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদরদপ্তরে জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার প্রস্তাবিত ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে ওই অঞ্চলে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা। এটি ন্যাটোর বিদ্যমান ‘বাল্টিক সেন্ট্রি’ ও ‘ইস্টার্ন সেন্ট্রি’ মডেলের আদলে গড়ে তোলা হবে।
বর্ধিত সামরিক উপস্থিতির অংশ হিসেবে মার্চ মাসে ১৫০০ রয়েল মেরিন কমান্ডো ন্যাটোর ‘এক্সারসাইজ
কোল্ড রেসপন্স’-এ
অংশ নেবে। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনজুড়ে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ মহড়া মিত্রবাহিনীকে চরম
আর্কটিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা কৌশল অনুশীলনের সুযোগ দেবে। আগামী সেপ্টেম্বরে
বৃটেনের নেতৃত্বে ‘জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ ‘লায়ন প্রোটেক্টর’ নামে একটি মহড়া পরিচালনা
করবে। সেখানে ইউরোপের কয়েকটি দেশের বিমান, স্থল ও নৌবাহিনী অংশ নেবে। এ অভিযানের লক্ষ্য
হবে নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও ড্যানিশ প্রণালিজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে হামলা ও নাশকতা
থেকে রক্ষার প্রশিক্ষণ দেয়া।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বৃটেন ও ন্যাটো মিত্ররা পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। গত বছর বৃটেন ও নরওয়ে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য সমুদ্রতলের কেবল সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের নৌবাহিনী যৌথ বহর পরিচালনা করে রুশ সাবমেরিন নজরদারি করবে।
বৃটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে,
গত দুই বছরে বৃটিশ জলসীমায় রুশ সাবমেরিনের উপস্থিতি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিরক্ষা
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, উত্তর আটলান্টিকে রুশ সাবমেরিন তৎপরতা এখন শীতল যুদ্ধকালীন
সময়ের সমান পর্যায়ে ফিরে গেছে।