নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬ রাত ০৬:৪৮:৫৮
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিল: সড়ক মন্ত্রী
ঈদের সময় কোনো বাস কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিয়ে সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান। সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ আসলেই পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। সেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একটি টাকা বেশি নিলে আমাদেরকে জানান, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এটার নিয়ন্ত্রণ যে কোনো মূল্যে করা হবে।
সভায় পরিবহন মালিকরা ছিলেন, তারা ভাড়া বেশি নেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী।
এসি বাসের ভাড়া নির্ধারিত নেই, তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নেয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো বাসেরই ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত ভাড়া অনুমোদিত কি না, সেটা প্রশ্ন করতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়া নেয়, ইচ্ছামতো কোনো ভাড়া নিতে পারে না।
আপনি কি তাহলে বলছেন ঈদের সময় কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সেই বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন? এমন প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম বলেন, আসলে নয়, সত্যিকারে (ব্যবস্থা) নেবো। সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।
কী ধরনের ব্যবস্থা নেবেন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তবে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। ওই ভাড়া নিতে গিয়ে যদি ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকে, তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে।
ঈদকে সামনে রেখে সভায় ২৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য যার যার অবস্থান থেকে যে দায়িত্ব আছে তা পালন করতে সবাই সক্ষম হবে- এই প্রত্যাশা আমরা রাখছি। মানুষ একটা স্বস্তির ঈদযাত্রা, নিরাপদ ঈদযাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে আমরা নিশ্চিত করছি। মনে রাখা দরকার, ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটির মতো লোক ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে যাবে। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
ঈদযাত্রা উপলক্ষে সড়কে চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন খাতে যারা জড়িত সবাই তৎপর আছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যারা এখানে মনিটরিং করা দরকার সেটা আছে। মোবাইল কোর্ট আছে, হাইওয়ে পুলিশ তৎপর আছে। কোনো অবস্থাতে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠার সুযোগ নেই।
পোশাকশ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দিন শেষে তা রাখা হয় না। একসঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ছুটি হওয়ার কারণে চন্দ্রায় বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসি থেকে আলাদা বাস ওখানে প্রস্তুত রাখা হবে। বিআরটিসি চেয়ারম্যান সেটা নিশ্চিত করেছেন। গার্মেন্টস যেটা ছুটি হবে- ১৬ তারিখে ১৬ শতাংশ, ১৭ তারিখে ২২ শতাংশ, ঠিক এইভাবে পর্যায়ক্রমে ঈদের আগেই ধাপে ধাপে গার্মেন্টসগুলো ছুটি হবে। তারা পরিসংখ্যান দিয়ে নিশ্চিত করেছেন এবং আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছি। এর কোনো ব্যত্যয় আশা করছি ঘটবে না। ঘটলে সেখানে তাৎক্ষণিক যানজটমুক্ত করা এবং যাত্রীরা যাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, যখন যে ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে তা নিশ্চিত করতে আমাদের সব ডিপার্টমেন্ট প্রস্তুত আছে। পরিস্থিতি বুঝে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে মেরামত করে- যাত্রীর প্রচুর চাপ থাকে বিধায় রাস্তায় তারা চলে আসতে পারছে। এসব ওয়ার্কশপে নজরদারি করা হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি কোনো অবস্থাতে রাস্তা উঠতে পারবে না- এটা নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘আরেকটা হচ্ছে যে আমাদের সেতু বিভাগ এবং সড়ক বিভাগ, তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এরই মধ্যে চলমান আছে। সেই কাজগুলো যাতে কোনো রকমের মালামাল, ইকুইপমেন্টস রাস্তার ওপর না থাকে, লেনগুলো যাতে সচল থাকে, সেটা দ্রুত সময়ের মধ্যে কিছু মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।’
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং পচনশীল বস্তু ছাড়া অন্যান্য জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে সেগুলো যাতে ঈদের জন্য বন্ধ থাকে খালাস করা দুই-তিন দিন... চার দিন চার দিন নিশ্চিত করা হয়েছে, আর পাঁচ দিন পাঁচ দিন আমাদের প্রস্তাবনা আছে।
দেখা যায় টোল কালেকশনের জন্য সেতুগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। টোল কালেকশন দ্রুত করার জন্য কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছেন কি না? এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একটা প্রস্তাবনা এসেছে যে যেসব দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাবে, তারা টোল প্লাজায় টোল না দিয়ে একটা টোলের টিকিট সিস্টেম করে দেওয়া যায় কি না- তারা এখান থেকে নিয়ে যাবেন আর ওটা দেখালে চলে যেতে পারবেন। এই প্রস্তাবনা এসেছে, কিন্তু কীভাবে কার্যকর করা যেতে পারে এক-দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি বলেন, আশা করছি আপনারা একটা স্বস্তির ঈদযাত্রা পাচ্ছেন। আপনাদের শঙ্কা আছে জানি, কিন্তু আস্থা রাখুন নিশ্চয়ই আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো সার্ভিস নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।