নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:৫৯:৩৭
বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা
বিশ্বের সবচেয়ে অযোগ্য বা বাস অনুপযোগী শহরের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। দুর্বল অবকাঠামো এবং পরিবেশগত সমস্যার কারণে ঢাকা ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)-এর প্রকাশিত গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। তালিকায় কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক (১৭৩তম) এবং লিবিয়ার ত্রিপোলি (১৭২তম) ঢাকার চেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং স্থিতিশীলতা- এই পাঁচটি ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে এই র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ঢাকার সবচেয়ে দুর্বল খাত অবকাঠামো, স্কোর মাত্র ২৭। এছাড়াও সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০.৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪১.৭ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায় ৪৫ স্কোর করেছে বাংলাদেশের রাজধানী। অপর দিকে ঢাকার সবচেয়ে শক্তিশালী খাত শিক্ষা, এ খাতে স্কোর ৬৭।
ইআইইউ বলছে, মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্প চালু হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি কিছু কাঠামোগত সংকটের কারণে জীবনযাত্রার মানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- তীব্র যানজট ও ত্রুটিপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা, অনিয়ন্ত্রিত বায়ুদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভঙ্গুর নাগরিক সেবা।
এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকার পারফরম্যান্স অন্যান্য প্রধান শহরগুলোর চেয়েও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এশিয়ার গড় বাসযোগ্যতা স্কোর যেখানে ৭৪, সেখানে ঢাকার স্কোর মাত্র ৪২, যা পুরো অঞ্চলের গড় স্কোরেও প্রভাব ফেলেছে। তালিকার তলানির দিকে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচি ৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে, অর্থাৎ ১৭০তম অবস্থানে রয়েছে।
তবে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি ঘটিয়ে চীনের কয়েকটি শহরের সূচকে উন্নতি ঘটেছে। আবার সংস্কৃতি ও পরিবেশের উন্নতি করে সূচকে ওপরে উঠে গেছে জাপানের রাজধানী টোকিও।
এদিকে চলতি বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের মর্যাদা পেয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখল শহরটি। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। শীর্ষ দশে যথাক্রমে জায়গা করে নিয়েছে— অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ও জেনেভা, জাপানের ওসাকা, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার এবং জাপানের টোকিও।
এই তালিকার একেবারে তলানিতে (১৭৩তম) রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। দামেস্কের ঠিক ওপরে ১৭২তম অবস্থানে রয়েছে লিবিয়ার ত্রিপোলি। আর ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এছাড়া পাকিস্তানের করাচি রয়েছে ১৭০তম অবস্থানে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোর বাসযোগ্যতার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে ইরানের রাজধানী তেহরান ১৬৪তম স্থানে নেমে এসেছে। এছাড়াও ওমানের মাস্কট, কাতারের দোহা, আমিরাতের দুবাই এবং আবুধাবির মতো উপসাগরীয় শহরগুলোর অবনতি হয়েছে।
সূত্র: ইআইইউ