ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় বেদান্ত লিমিটেডের একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরিত হয়েছে। এসময় বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার সিংহিতারাই গ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বয়লার টিউবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের সময় সেখানে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে শক্তি থানার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর জানান, দুপুর ২টার দিকে সিংগিতারাই গ্রামের বেদান্ত লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই বিস্ফোরণটি ঘটে।তিনি বলেন, ১৪ জন শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। আহতদের শক্তি ও রায়গড়ের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।বেদান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার বিকেলে প্ল্যান্টের একটি বয়লার ইউনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইউনিটটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনজিএসএল।তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এখন তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। আহতদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসা দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এসময় তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন।
১৭ মিনিট আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।১৫ এপ্রিল বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রশ্ন রাখেন, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না? হলে, কবে নাগাদ তা করা হবে?জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা তিন লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার চারশত ঊননব্বই জন এবং এর মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে এক লাখ ত্রিশ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ভৌগলিক গুরুত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে সরকার কর্তৃক পৃথক একটি ‘উপকূল বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হবে কিনা? জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। এ ছাড়াও ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি ২০০৫’ প্রণয়ন করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বর্তমান সরকার Maritime Spatial Planning (MSP) বা সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম ও এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জিতব্য বিষয়াদি বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
২৮ মিনিট আগে
ইরানের বন্দরগুলো ব্যবহার করে সমুদ্রপথে পরিচালিত সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।সংস্থাটির প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল এবং অবরোধ আরোপের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন বাহিনী সেই বাণিজ্যিক পথগুলো ‘পুরোপুরি কার্যকর’ ভাবে রুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রসীমায় মার্কিন বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে এবং ইরানের ভেতরে বা বাইরে কোনো ধরনের পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করতে পারছে না।মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরগুলোতে যেকোনো দেশের জাহাজ প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এই অবরোধ অত্যন্ত কঠোর ও ‘নিরপেক্ষভাবে’ কার্যকর করা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয় বরং ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা যেকোনো আন্তর্জাতিক নৌযানই মার্কিন নজরদারির আওতায় থাকবে। অবরোধ নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর উচ্চ প্রশিক্ষিত ও অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, প্রতিটি ডেস্ট্রয়ারে ৩০০-এর বেশি নৌসেনা রয়েছেন যারা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় পারদর্শী, যা এই অবরোধের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর এই চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির মূল লক্ষ্য হলো দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে তেহরানকে ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা।মার্কিন এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে যেমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে তেলের বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।এদিকে ইরান এই নৌ-অবরোধের বিপরীতে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এক উত্তেজনাপূর্ণ শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে। সমুদ্রপথে ইরানের এই ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে দ্রুত এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই নিরঙ্কুশ অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎকেও এখন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা
৪৫ মিনিট আগে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ‘শেষের খুবই কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন বাহিনী ইরানে এখনও তার কাজ ‘শেষ করেনি’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় ইরান যুদ্ধ শেষের পথে। হ্যাঁ, মানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে এই যুদ্ধ শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।”“ আমি আরও বলব, যদি এখনই আমি ইরান থেকে সবকিছু গুটিয়ে নেই— তাহলে দেশ পুনর্গঠন করতে তাদের ২০ বছর লাগবে…এবং আমরা এখনও (অভিজান) শেষ করিনি। আমরা দেখব কী হয়। আমার মনে হয় তারা খুব তীব্রভাবে একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে।”ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।এই যুদ্ধবিরতেকে স্থায়ী যুদ্ধাবসানের দিকে নিয়ে যেতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা।বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। কিন্তু ২২ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো চুক্তিস্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে ইসলামাবাদ বৈঠক।তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, শিগগিরই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।
১ ঘন্টা আগে