হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে ইরানি দ্বীপ লারাকে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি সোমবার ভোরের দিকে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।আজ সোমবার ভোরের দিকে দেওয়া সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ‘কিং হুসেইন’ এবং ‘আজরাক’ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে রোববার মধ্যরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে আইআরজিসি।বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি, কিং হোসেইন ও আজরাক বিমান ঘাঁটির প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা পরিচালনা করে, সেক্ষেত্রে পাল্টা জবাব হবে এই হামলার চেয়েও কঠিন।এর আগে রোববার রাতে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে অবস্থিত লারাক দ্বীপে বিমান অভিযান চালিয়ে দু’টি লাঞ্চার ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। হামলার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়, লারাক দ্বীপের এ দু’টি লাঞ্চার হরমুজে জলমাইন স্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হতো।কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির পেতে রাখা সব মাইন অপসারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এদিকে রোববার রাতে লারাক দ্বীপে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে ইরানের এমপি ইব্রাহিম আজিজি বলেন, “কোনো অপরাধকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি হামলার জবাবে বিধ্বসংসী, যন্ত্রণাদায়ক এবং শিক্ষামূলক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। পাল্টা হামলা আসছে, এবার শুধু দৌড়ান।”সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, এএফপি
৪১ মিনিট আগে
নেপালে প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ঘটনার চার দিন পরও অন্তত ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এতে প্রাণহানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে দেশটির পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।পৃথক আরেকটি তথ্যে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, ৭৮১ জন নিহত হয়েছেন এবং দুই হাজার ৫০২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।মূলত, গত কয়েকদিন ধরে নেপালের একাধিক সংস্থা থেকে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং সরকারি পরিসংখ্যানের সাথে সবসময় সেই তথ্যের মিল থাকে না। এছাড়াও নিখোঁজের তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকা, উদ্ধার হওয়ার পরও তালিকা থেকে নাম বাদ না পড়া এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিহত ও নিখোঁজের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন।এদিকে শত শত উদ্ধারকৃত মরদেহের অবস্থা অত্যন্ত বিকৃত ও পরিচয়হীন হওয়ায় গণকবর দেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। তবে পরিচয় শনাক্তকরণের সুবিধার্থে সমাহিত করার আগে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে।এনডিআরআরএমএ আরও জানিয়েছে, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭১৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেই উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনেরও বেশি মানুষকে উপদ্রুত এলাকা থেকে সফলভাবে উদ্ধার করতে পেরেছে।এদিকে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদা ও ধ্বংসস্তূপে নিমজ্জিত টানেলগুলোর ভেতর ডিলিং ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনও প্রায় শতাধিক শ্রমিক সেখানে আটকা আছেন।চীনের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা ৮১০ জনে পৌঁছেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের ভূমিধসে ১৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও তিব্বতে ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ আছেন, যাদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র: সিএনএন, বিবিসি
১১ ঘন্টা আগে
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। পরে তিনি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সরিষার তেলের ঘানি ঘুরে দেখেন। এ সময় খামারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা উন্নত জাতের গরু পালন, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের খাপরিখাল এলাকায় প্যারাগন ডেইরি ফার্মে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি উন্নত জাতের গরু পালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।খামার ঘুরে গাভির পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত জাতের গরুর প্রজনন কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।প্যারাগন ডেইরির কর্মকর্তারা জানান, গাভির দুধ উৎপাদন বাড়াতে উন্নত পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খামারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সয়াবিন ও ভুট্টাসহ উন্নতমানের পশুখাদ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি আমেরিকান জেনেটিক্স ব্যবহার করে উন্নত জাতের গরু পালনের কার্যক্রমও চলছে।খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নত জেনেটিক্স ও মানসম্মত পশুখাদ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্য বাংলাদেশের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান ও এজিএম মেজবাহ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খামারের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা, পশুখাদ্য, দুধ উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। পরে খামারে উৎপাদিত দুধ পান করেন তিনি।এরপর বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাটে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি ঘুরে দেখেন এবং সরিষা থেকে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। ঘানিভাঙা সরিষার তেল তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি এখনো টিকে থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিয়েন ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।এ সময় রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার, রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।সকাল ১১টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গঙ্গাচড়া ত্যাগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। উন্নত পশুখাদ্য ও জেনেটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
১১ ঘন্টা আগে
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার ৫ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।আজ রোববার (৩০ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পাঁচ এডিসিকে বদলির বিষয়টি জানানো হয়েছে।অফিস আদেশে গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগের এডিসি মো. সোনাহর আলীকে গোয়েন্দা-গুলশান বিভাগে বদলি করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের এডিসি মো. সাজ্জাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের। অন্যদিকে, এতদিন ক্যান্টনমেন্ট জোনের দায়িত্বে থাকা এডিসি মোহাম্মদ আবির হাসানকে কমিশনার দপ্তরে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ‘স্টাফ অফিসার টু কমিশনার’ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের এডিসি মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরীকে পিওএম-পূর্ব বিভাগে এবং পিওএম-পূর্ব বিভাগের এডিসি মো. নজরুল ইসলামকে গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের রমনা জোনাল টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়।
১২ ঘন্টা আগে