নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ রাত ০৭:৫২:১৬
ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুত, চামড়া সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
বুধবার (১৭ মে) রাজধানীর মিরপুরে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা যে নিয়ম ও পদ্ধতি শিখবেন, তা অনুসরণ করেই কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা জরুরি। এ জন্য চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ লবণ বিনামূল্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির কাজে নিয়োজিত মৌসুমি শ্রমিকদেরও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কাজ করার নিয়ম জানাতে হবে। কোরবানির পরপরই রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া নির্ধারিত ব্যাগে কোরবানির বর্জ্য ভরে বাসার সামনে রাখলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা দ্রুত তা অপসারণ করবে।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুরো শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি সবার। সবাই সচেতন হলে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ সম্ভব।
স্বাগত বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, এবার দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার। ঈদে বিপুল চামড়া ও মাংসের গুণগত মান বজায় রাখতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি, মাংসের মান ঠিক রাখা এবং চামড়ার গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঈদের আগে জুমার খুতবায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম ও প্রশিক্ষণার্থী মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, হালাল ও সহিহ পদ্ধতিতে পশু কোরবানি করতে হবে। জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে যাতে শরীর থেকে সম্পূর্ণ রক্ত বের হয়ে যায়। এরপর পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে রক্ত জমাট বাঁধবে না এবং পরিবেশও পরিচ্ছন্ন থাকবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কোরবানির সঠিক নিয়ম অনুসরণ, চামড়ার গুণগত মান সংরক্ষণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।