রয়টার্সের বিশ্লেষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ০২:৩২:২৯
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট কেন?
২০২৪ সালের আগস্টে সহিংস আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এই নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) আয়োজন করা হচ্ছে একটি জাতীয় গণভোট। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়াই এ গণভোটের মূল উদ্দেশ্য।
কেন এই গণভোট?:
গণভোটটি মূলত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রণীত 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নকে ঘিরে। সনদে সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে 'স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ' করার কথাও উল্লেখ আছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার গত নভেম্বরে সনদ বাস্তবায়নের আদেশ অনুমোদন করে জানায়, গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার আগে জনগণের সরাসরি অনুমোদন প্রয়োজন।
কী বিষয়ে ভোট দেবেন নাগরিকরা?:
ভোটাররা চারটি বড় সংস্কার প্রস্তাবের ওপর মত দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে-
নতুন সাংবিধানিক সংস্থা গঠন এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু করা, যেখানে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন বাধ্যতামূলক হবে
এ ছাড়া জুলাই সনদের আওতায় থাকা ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ও গণভোটে অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্যান্য কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে।
প্রতিটি ভোটার গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট 'পক্ষে' পড়লে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যা প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
গণভোটের পটভূমি:
বাংলাদেশে এর আগে তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১১ সালে হাসিনা সরকার গণভোটের বিধান বাতিল করলেও ২০২৪ সালে তার পতনের পর হাইকোর্ট সেটি পুনর্বহাল করে। ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালের গণভোটে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও তাদের নীতির প্রতি আস্থা আছে কি না-সে প্রশ্নে ভোট নেওয়া হয়। আর ১৯৯১ সালের গণভোটে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তিন ক্ষেত্রেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার 'হ্যাঁ' ভোট দেন।
গণভোট নিয়ে সমালোচনা:
তবে এবারের গণভোট নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, একাধিক সংস্কার প্রস্তাব একসঙ্গে যুক্ত করে একটি 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোটে সীমাবদ্ধ রাখায় ভোটাররা পৃথকভাবে মত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে সুস্পষ্ট বিতর্ক ও বোঝাপড়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দল 'হ্যাঁ' ভোটকে সংস্কারের জন্য অপরিহার্য হিসেবে উপস্থাপন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতে 'না' ভোটকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে করে ভিন্নমতের পরিসর সংকুচিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।