নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:০২:০৭
ঈদের ছুটি শেষে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে নাড়ির টান ছেড়ে আবারও যান্ত্রিক শহর ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ২৩ মার্চ সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে।
ঈদের আগের সেই চিরচেনা ভোগান্তি বা উপচেপড়া ভিড় ছাড়াই এবারের ফিরতি যাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় এবার সবাই অনেকটা আরামেই ঢাকা পৌঁছাতে পারছেন।
২২ মার্চ রোববার বিকেল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। নোয়াখালী থেকে আসা উপকূল এক্সপ্রেস প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে বিকেলে ঢাকায় পৌঁছায়।
এই ট্রেনের যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার থেকে অফিস খোলা থাকায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়েই তিনি ঢাকায় ফিরেছেন। তার মতে, বাসের তুলনায় ট্রেন ভ্রমণ অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হওয়ায় তিনি বরাবরই এই পথ বেছে নেন।
একই ট্রেনের যাত্রী শাহজালাল জানান, এক সপ্তাহ আগেই গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। এখন জীবিকার তাগিদে আবারও কর্মস্থলে ফেরা। অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও সোমবার ভোর থেকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলোর ভিড় বাড়তে থাকে।
যাত্রীরা জানান, এবারের লম্বা ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকায় পৌঁছাতে পেরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
তবে ফেরার স্রোতের মাঝেও একটি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও অনেক মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। মূলত ঈদের আগে টিকিটের তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে যারা ঢাকাতেই ঈদ করেছেন, তারা এখন পরিবারের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী সময় কাটাতে গ্রামের বাড়ি ছুটছেন। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জামালপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিল।
সপরিবারে গ্রামে যাওয়া যাত্রী তরিকুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় তিনি এখন গ্রামে যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। তাদের মতে, নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য ঈদের পরের সময়টিই সবচেয়ে উপযুক্ত।