মোখলেছুর রহমান, কোনাবাড়ী
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৫:০৫
গাজীপুরের ধান গবেষণায় অস্থিরতা, তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কেবল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় এটি দেশের কোটি কোটি কৃষকের স্বপ্ন এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রধানতম স্তম্ভ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও এক কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কিছু বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক ড. মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, গত ৩ মে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বের বিপরীতে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ৫ মে আরেক আদেশে তাকে পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) হিসেবে রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পর প্রতিষ্ঠানটিতে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
তাদের অভিযোগ, একজন গবেষকের কলমের জোর হওয়ার কথা তাঁর আবিষ্কার আর মেধা। কিন্তু ড. আমিনুল ইসলাম ব্রি’তে যোগ দিতে এলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবয়বে। পুলিশের নিরাপত্তা বলয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, স্থানীয় লোকজন নিয়ে এক বিশাল মোটরসাইকেল বহর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ করেন। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা গেছে, সাধারণ বিজ্ঞানী ও কর্মচারীরা যখন প্রতিবাদ করছেন, তখন এই বহিরাগত লোকজন প্রতিষ্ঠানটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
দুদকের নজরদারি ও মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৫ শাখা থেকে ব্রি মহাপরিচালককে পাঠানো এক পত্রে অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। দুদকের চাহিদাপত্র অনুযায়ী, ম্যুরাল ও ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবরণ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ০৫ অক্টোবর ব্রি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করে।
এছাড়া অভিযোগকারীরা বলেন, ম্যুরাল ও ভাস্কর্য নির্মাণে প্রধান কার্যালয় ছাড়াও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে ম্যুরাল নির্মাণ খাতে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৭৮০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই কাজের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন ড. আমিনুল ইসলাম (তৎকালীন সিএসও এবং প্রধান)।
অস্পষ্টতা ও বর্তমান অবস্থা শুধু এখানেই শেষ নয় তিনি বিশেষ করে ২০২৩ সালের শোক দিবসের স্মরণিকা প্রকাশ উপ-কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন । গত ৫ মে ২০২৬ তারিখে কৃষি মন্ত্রনালয়ে আরেকটি চিঠিতে মহাপরিচালক রুটিন দ্বায়িত্ব পরিবর্তন করে তাকে পরিচালকের রুটিন দায়িত্বে প্রদান করা হয়।
বিক্ষোভকারী বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা দাবি করেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, ড. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ড. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করা হচ্ছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন।