নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ দুপুর ০২:৪১:৩৬
ধীরে ধীরে সেনারা ব্যারাকে ফিরছেন: সেনাপ্রধান
বর্তমানে দেশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশের প্রয়োজনে সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। । তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, দীর্ঘ সময় মাঠে দায়িত্ব পালনের পরও সেনাসদস্যরা শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণ দক্ষতা ধরে রেখেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, “১৮ মাস মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের পরও ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় যে দক্ষতা দেখা গেছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময়ই যুদ্ধ প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং পেশাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জরুরি অবস্থায় সেনাবাহিনীকে মাঠপর্যায়ে সহায়তা ও দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুরু হওয়া এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শেষ হয় বৃহস্পতিবারের সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ধাপে লক্ষ্যভেদ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত ফায়ারিং এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সিমুলেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার শেষে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বিজয়ীদের হাতে সেনাপ্রধান পুরস্কার তুলে দেন এবং অংশগ্রহণকারী সব দলকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পারফরম্যান্সের জন্য উৎসাহ দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডন্যান্স (এমজিও), বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার সিলেটসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ফরমেশনের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
সেনাবাহিনী সূত্র আরও জানায়, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু দক্ষতা যাচাই নয়, বরং ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আধুনিক যুদ্ধ কৌশল চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিয়মিত আয়োজন করা হয়।