নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:১০:২৮
তামাকমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রস্তাবিত বাজেট: বিটিসিএর উদ্বেগ
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিটিসিএর আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ এবং মডারেটর সুশান্ত সিনহা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, ফারহানা জামান লিজা, সামিউল হাসান সজীব, আবু রায়হান ও ইব্রাহীম খলিল এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার একদিকে দেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে এমন বাজেট প্রস্তাব করেছে যা সেই লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার ধারা প্রত্যাহার করে এসব পণ্যকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিটিসিএর নেতৃবৃন্দ বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক কিশোর ও তরুণ নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকিতে পড়বে। তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব আয়ের চিন্তা থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করবে এবং তামাকজনিত রোগ, উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও অকালমৃত্যুর কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও তা জনস্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট নয়। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেট বিক্রি হয় নিম্নস্তরের বাজারে, অথচ ওই স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এ বৃদ্ধি কার্যত অকার্যকর বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিটিসিএ জানায়, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভেলোরেম করের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট (স্পেসিফিক এক্সাইজ) কর আরোপের সুপারিশ করে আসছেন। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে এবং তামাক কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে।
সংগঠনটির মতে, নিম্নস্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্য কার্যকরভাবে না বাড়ানো এবং নতুন নিকোটিনজাত পণ্যকে বৈধতা দেওয়ার ফলে এবারের বাজেট তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, ডিজিটাল ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ এবং তামাকজাত পণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিটিসিএ। সংগঠনটির মতে, এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
বিবৃতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্মূল্যায়ন এবং জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা প্রয়োজন।