নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০১:২৪:২২
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপি সরকারের প্রথম একনেক সভা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৬ এপ্রিল সোমবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান সরকারের এই প্রথম একনেক সভায় গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৯টি সম্পূর্ণ নতুন এবং বাকি ৯টি সংশোধিত বা সময় বৃদ্ধির প্রকল্প হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই সভায় দেশের অবকাঠামো ও জনসেবামূলক খাতগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এবারের সভায় আলোচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকার জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সচিবালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়া সাভার সেনানিবাসে আধুনিক ব্যারাক নির্মাণ, দেশের ৮টি বিভাগে উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন এবং গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছে। নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনস্বাস্থ্য এবং নগরায়ণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই এই সভার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রকল্পের চেয়ে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করাকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সভায় স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, প্রকল্পের সুফল যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় এবং কোনোভাবেই যেন অর্থের অপচয় না হয়। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশন ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রকল্পের গুণগত মান ও সময়সীমা বজায় রাখতে একটি কঠোর মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি যাচাই করা হবে যাতে কোনো কাজ ঝুলে না থাকে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভাটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।