নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:০৬:৫৮
আমরা একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিদ্যুৎ সংকট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দ্রুত উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় অগ্রাধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও দলমত নির্বিশেষে ঐক্য ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান কীভাবে করা যায় এবং দেশ-বিদেশে অধিক সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোতে দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে প্রায়ই সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার রাস্তা, সেতু ও কালভার্টের চাহিদা তুলে ধরেন। এমনকি বিরোধীদলীয় নেতাও তার এলাকার সমস্যার কথা বলেছেন। তবে তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
বর্তমান সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় একটি স্থিতিশীল সরকার এবং স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত না করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইটি শিল্পের বিকাশ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এর উন্নয়ন নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।
১৯৭১ সালের পর বিভিন্ন দেশের অগ্রগতির উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপ চলবে। তবে কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতীতে ১৭৩ দিনের হরতালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ মানেই পুরো বাংলাদেশ, এবং সংসদের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ, আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ—এবং আমরা যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে।’