নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:৩৩:৫৯
ভোটের সময় নয়, ফল ঘোষণার আগেই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে: গোলাম পরওয়ার
খুলনায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ভোটগ্রহণের সময় বড় ধরনের অনিয়ম চোখে না পড়লেও ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রচারের মাঝামাঝি সময়ে “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে খুলনা মহানগরীর হোটেল গ্রান্ড প্লাসিডে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, হিন্দু মহাজোটের খুলনা জেলা সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম হাবিব, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কাজী শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভোটের দিন পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। মানুষ বাধাহীনভাবে ভোট দিয়েছে। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার আগে যে রহস্যময় বিরতি তৈরি হয়েছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আসন থেকে বিরোধী জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকার খবর আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “এই সময়টাতেই কী ঘটেছে, তার স্পষ্ট জবাব সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন কেউই দিতে পারেনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অল্প ভোটের ব্যবধানে থাকা বেশ কয়েকটি আসনে ওপর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আদালত ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি আসনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এবারের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেক মানুষ আছেন যারা আগে কখনো জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, এমনকি দাঁড়িপাল্লার স্লোগানও দেননি—তারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কিছু অবস্থান সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সরকারকে ভালো কাজে সহযোগিতা করবে এবং অন্যায় দেখলে সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গায় প্রতিবাদ জানাবে বলেও উল্লেখ করেন।
রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাকওয়া অর্জন ও কোরআনের আদর্শ অনুসরণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া সম্ভব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে তাকে ও মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের প্রার্থীদের পরাজিত করা হয়েছে—তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। তার মতে, এতে দেশবাসীর কাছে বিগত নির্বাচনের বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হয়েছে।