নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ০১:৫৫:৪১
নারী-শিশু নির্যাতনের শাস্তিসহ ১০ দফা দাবিতে রাজপথে মহিলা জামায়াত
রামপুরা, নরসিংদীসহ নির্বাচন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের নির্যাতন, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি জানিয়ে রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করে অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের এবং যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ আয়োজিত এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এ সব দাবি
তুলে ধরেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের অধিকাংশ
ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের দ্বারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা নারী ও
শিশু নির্যাতনের ঘটনা জানার পর দেখি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা শুরু করে। আমরা
গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
মানববন্ধনে ‘ধর্ষক-খুনির কোনো ছাড় নেই, বাংলার মাটিতে
তাদের ঠাঁই নেই’,
‘অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, অপরাধীর কোনো রেহাই নয়’, ‘রামপুরা থেকে নরসিংদী বিচার চাই নিরবধি’, ‘সহনশীলতা চাই বিদ্বেষ
নয়’, ‘প্রশাসনের জবাবদিহি চাই
নিরাপদ দেশ গড়তেই হবে ভাই’,
‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও নীরবতা ভেঙে আওয়াজ তোলো’, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন
বন্ধ করো দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করো’, ‘নারীর নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায় অবহেলা
আর চলবে না ভাই’
ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সহকারী
সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নির্বাচনের দিন থেকেই স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের
কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীরা পাশবিকতার শিকার হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতি
ও সহিংসতায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজধানীসহ সারা দেশের
দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে শিশুরাও এমন মানুষরূপী
হায়নার কাছ থেকে বাঁচতে পারছে না।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে গ্রেপ্তার করে কিছু
সময়ক্ষেপণ করা হয়। আসল দোষীদের আমরা শাস্তি দিচ্ছি না। এটা একদিন নয়, একাধিকবার
হচ্ছে এ থেকে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই নারী নির্যাতন
শিশু নির্যাতন বন্ধের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। আসুন মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ
হয়ে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে
১০ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো– নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব কোনোভাবেই
প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না; এ ধরনের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি
বন্ধ করতে হবে; নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া।
এছাড়া প্রতিটি মা বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে
প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; গ্রেপ্তার অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা
করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে; মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি তদন্ত
করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিশু নিরাপত্তা ও
ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।