নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬ রাত ১০:৩৭:২৫
বিএনপি জুলাইয়ের বিপ্লবীদের সঙ্গে গাদ্দারি করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি (সুবিধাভোগী) বিএনপি হলেও দলটি এখন জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করে বিপ্লবীদের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, বিএনপির কাছে জুলাই ‘আননেসেসারি’ হলেও জনগণের কাছে জুলাই ‘নেসেসারি’।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের র্যালিপূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ সমাবেশ ও র্যালির আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পর থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপি কোনোদিন বলেনি যে গণভোট সংবিধানে নেই বা রাষ্ট্রপতি গণভোটের অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না। কিন্তু নির্বাচনের পর ক্ষমতায় বসেই তারা উল্টো অবস্থান নিয়েছে। একই অধ্যাদেশে সংসদ নির্বাচনকে বৈধ দাবি করে গণভোটকে অবৈধ বলা জাতির সঙ্গে প্রতারণা।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকলেও সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের বেতন বন্ধ হয়নি। জুলাইকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলে জনগণ তার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রার সুবিধার্থে প্রশাসনের অনুরোধে ১১ দলীয় ঐক্য পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে শাহবাগে সমাবেশের আয়োজন করেছে।’
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পথ বিএনপিকেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানান তিনি। গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ১১ দলীয় ঐক্য কঠোর কর্মসূচিতে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দিয়েই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে দলটি গণভোটের রায় উপেক্ষা করে পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।
আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সরকার এখনো জুলাই শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। তিনি দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান।
নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী এবং এনডিএম চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানও বক্তব্য দেন। তারা গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান।
অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন, মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির এআরএম জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এলডিপির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, শহীদের পিতা মোশারফ হোসেন এবং জুলাইযোদ্ধা কামরুল ইসলাম।
সমাবেশ শেষে জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাইযোদ্ধা ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি শাহবাগ চত্বর থেকে শুরু হয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) গেটে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।