নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬ রাত ০৭:৫৪:৩৭
প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো: প্রধানমন্ত্রী
প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন বলে এমন তথ্য দিয়েছেন তাঁর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ)।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অধীর আগ্রহে তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন।
সুজন মাহমুদ বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এবং তাঁর সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন, যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাউকে আলাদা মনে করেন না।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণসুবিধা প্রদানের দাবি উপস্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থ পাচার না হতো, তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেত। আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য, সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।
উপপ্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এত এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে এখনো বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছর তো এগুলো অ্যাড্রেস হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো যদি অ্যাড্রেস করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপটা এসেছে আমাদের সরকারের ওপরে। এই সরকারের ওপরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি, সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।
দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা একটা জেনারেশনকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে। তারপর আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০১ বেডে উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিং-প্রভৃতি জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।