নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬ রাত ০৮:১৭:১৫
চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাণিজ্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে: জামায়াত আমির
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি পরিচালনা করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভার শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএ মা’ছুম।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত সাড়ে তিন মাসে শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় শেরপুরে জামায়াতের এক নেতা, চুয়াডাঙ্গায় দুই নেতাকর্মী এবং সম্প্রতি গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতা নিহত হয়েছেন।”
সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) ইস্যু এবং বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন এবং সাংগঠনিক বিষয়েও আলোচনা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, “জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করে আসছে। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বর্তমান জাতীয় সংসদেও জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বৈষম্য ও দারিদ্র্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।”
তিনি দাবি করেন, “২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই আন্দোলনের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।”
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।”
সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে নগ্ন দলীয়করণ চলছে। এমনকি সংসদেও বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।”
সভায় সমাপনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আমাদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না।”
তরুণ সমাজ ও আলেমদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “দেশের সচেতন তরুণ সমাজই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের দেশপ্রেমিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আলেম সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দেশ গঠনে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।”
শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বৈষম্যমুক্ত, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।