নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:০৮:১৩
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির পাতা বা ডাল নয়, ঘাড় ধরে টান দেওয়া হবে। বড় দুর্নীতিবাজরা আইনের বাইরে থাকবে আর ছোট অপরাধীরা শাস্তি পাবে—এটি অন্যায়। দুর্নীতির জড় ও মূল ধরেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জামায়াত নিজেরা
চাঁদাবাজি করবে না এবং কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।
৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতে
ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
বিগত সরকারের সময়কার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ
তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের
অর্থ লুট করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বিদেশে পাচার হয়েছে ২৮ লাখ কোটি
টাকা, যা চারটি জাতীয় বাজেটের সমান। তিনি বলেন, এই অর্থ ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ এবং
তা ফেরত আনার জন্য চূড়ান্ত লড়াই করা হবে।
দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি
বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলের
১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া হাজারো নেতাকর্মী
নিহত ও বহু মানুষ পঙ্গু হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার
পতনের পর জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে যাবে না। তবে শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের
ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা
মামলা ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।
নারী ও যুবকদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বেকার ভাতা
দিয়ে নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবকদের সম্মান নিশ্চিত করতে চায় দলটি। নারীদের নিরাপত্তা,
মর্যাদা ও সম্মান শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান।
বরিশাল অঞ্চলের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদী শাসনের
চেয়ে নদী সংস্কার জরুরি। সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদী সংস্কার করা গেলে এক দশকের মধ্যে
এই অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।