নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:২৫:৪১
দেশপ্রেম সততা সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন: ড. মারুফ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, দেশপ্রেম, সততা, অদম্য সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি, পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত পৃথক বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। দেশপ্রেমিক সিপাহী জনতা '৭৫-এর ৭নভেম্বর অতন্ত্র প্রহরী হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন। সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। জিয়ার হাত ধরেই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। জাতির শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। এইদিন জিয়াউর রহমানকে ঘিরেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। সবাইকে নিয়ে আধুনিক সমৃদ্ধ দেশ গড়তে এক দলীয় বাকশালের শৃঙ্খল থেকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলকে মুক্ত করেন। বন্ধ ঘোষিত জাতীয় দৈনিকের প্রকাশনা ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরে একটি দল ক্ষমতায় এসে লুটপাট, চুরি ডাকাতি করে '৭৪-এ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে। তাদের সোনার ছেলেরা দেশকে অস্থিতিশীল ও তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম ও মানবিকতা দিয়ে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। ফ্যাসিস্ট দলটির নেতা যেখানে ব্যর্থ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন।
খন্দকার মারুফ বলেন, বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সকালে রেডিওতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, 'আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।' তাঁর এই শানিত বক্তব্য জাতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক বার্তা।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করেছে। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিতে রেখেছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতামাতার আদর্শ ধারণ করে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনটি দেশে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পলাতকরা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। দেশপ্রেমিক জনগণ এইসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিবে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, তারেক রহমান দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতা দিয়ে পিতার মতোই আগামীর সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সক্ষম হবেন। তিনি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন।
কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা এম.এ লতিফ ভূইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, আ.অদুদ মুন্সী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহউদ্দিন বায়েজিদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, কাউসার আলম সরকার, এম. সালাহউদ্দিন সরকার,আরিফ মাহামুদ, আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, জহিরুল ইসলাম, প্রফেসর শহীদুল ইসলাম, ডা.আবদুল কাইয়ুম, জয়নাল আবেদীন, ইউসুব হোসেন নয়ন, দিলারা শিরীন, আজহারুল হক শাহীন, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, শরীফ চৌধুরী, আতাউর রহমান ভুইয়া, মো.রোমান খন্দকার,আবদুল হান্নান, আবদুল বাসেদ প্রমুখ।