ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আহ্বানে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলো ট্রাম্প। কিন্তু তা হয়নি।সিএনএন এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মিত্র দেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে এগিয়ে না আসে, তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস জানান, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা ইউরোপের স্বার্থে হলেও এটি ন্যাটোর কার্যক্রমের আওতায় পড়ে না। জার্মানির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই সংঘাতের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটিকে “ন্যাটোর যুদ্ধ” হিসেবে দেখা হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, তারা মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর যৌথ পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে দ্রুত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো যায়। চীনকে আহ্বান জানালেও, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং তারা সব পক্ষকে সামরিক উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদে জানিয়েছেন, আপাতত হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও এ অঞ্চলে কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তীতে ট্রাম্প দাবি করেন, অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তার ভাষায়, কিছু দেশ খুবই উৎসাহী হলেও কিছু দেশ প্রত্যাশিত আগ্রহ দেখাচ্ছে না যা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘স্ট্রেট অব হরমুজ’ (হরমুজ প্রণালি) পুনরায় খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালিটি উন্মুক্ত না করলে ইরানের সব বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ধূলিসাৎ’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।জিএমটি সময় অনুযায়ী ট্রাম্প গতকাল ২১ মার্চ (শনিবার) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ওই পোস্টটি করেন। সে হিসাবে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরান আগামীকাল ২৩ মার্চ (সোমবার) রাত ১১টা ৪৪ মিনিট (তেহরান সময় ২৪ মার্চ রাত ৩টা ১৪ মিনিট) পর্যন্ত সময় পাচ্ছে।উল্লেখ্য, জিএমটির সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান ৬ ঘণ্টা। সেই অনুযায়ী, ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের শেষ সময় বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী হবে ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) ভোর ৫টা ৪৪ মিনিট।ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আঘাত করবে এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আর এই হামলা শুরু হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়ে!’স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের অবরোধ ও জাহাজে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে—আক্রমণ করা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাবে।
২২ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:৫২:১২
পে স্কেল ইস্যু: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রবিবার বৈঠকে বসবেন অর্থমন্ত্রী
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের দিকনির্দেশনা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানা গেছে, এ সময় অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়।জানা গেছে, সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন হবে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর তা কার্যকর করার আগে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর অংশ হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে।১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ায় পর্যালোচনা কমিটি এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও এ সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে।
৫ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩:১৪
হাতিরঝিলে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসা থেকে তানজিলা আক্তার নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাতিরঝিলে মাই টিভির গলির একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত তানজিলা আক্তার বরগুনা জেলার বামনা থানার চেচান গ্রামে আব্দুল হকের মেয়ে।হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন আহমেদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ওই নারীকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে অচেতন অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তিনি আরও বলেন, আমরা নিহতের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি পারিবারিক কলহের জেরে নিজ রুমে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। তবুও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৫ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৮:১২:৫৮
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে নিহত ৭ বাংলাদেশি, ৫জনের মরদেহ দেশে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। আর একজনকে সংযুক্ত আরব-আমিরাতে কবর দেওয়া হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ সোমবার (৬ এপ্রিল) দেশে এসেছে। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে নিহত ৭ বাংলাদেশির মধ্যে ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। একজনকে আরব আমিরাতে কবর দেওয়া হয়েছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে সরকার ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা করেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার ওপেন করার চেষ্টা করছি। সিন্ডিকেট মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।গত ৮ মার্চ ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় আঘাত হানলে মামুন দগ্ধ হন। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। রিয়াদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে।
৬ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১:৩৫:৫১
সংসদে ৭ বিল পাস, তিনটিতে নোট অব ডিসেন্ট
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশসহ জাতীয় সংসদে সোমবার (৬ এপ্রিল) সাতটি বিল সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।পাস হওয়া বিলের মধ্যে বাকি ৬টি হলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন বিল, ভোটার তালিকা সংশোধন বিল, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান সংশোধন বিল, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংশোধন বিল, জাতীয় সংসদ সচিবালয় অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান রহিতকরণ বিল, বাংলাদেশ ল অফিসার্স অ্যামেন্ডমেন্ড বিল।এছাড়া শুধুমাত্র উত্থাপন হয়েছে তিনটি বিল। এগুলো হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রহিতকরণ বিল, সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল এবং ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষার উদ্দেশ্য আনীত বিল। এরমধ্যে নোট অব ডিসেন্ট থাকায় পরে এসব বিলের ওপর আলোচনা হবে। এছাড়া ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬ অধিক যাচাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, তিনটি বিলে বিরোধীদল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এগুলো উত্থাপন করা হয়েছে যেন বিরোধী দলের সদস্যরা অধিকতর বিশ্লেষণ করতে পারেন। আগামীকালের সেশনে আলোচনা হবে।
৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:৩৬:১৯
পুরোনো পোশাকের পক্ষে অধিকাংশ পুলিশ
পুলিশ আগের গাঢ় নীল রঙের (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট) পোশাকে
ফিরতে চায় বলে একাধিক পুলিশ সদস্য মত দিয়েছেন। প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন পুলিশ সদস্য
আগের পোশাকের পক্ষে মত দেন। আর বর্তমানের লৌহ (আয়রন) রঙের শার্ট ও কফি (শেল) প্যান্ট
পরতে চান ৯১১ জন সদস্য।৪ মার্চ বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ সব খবর জানা
যায়।পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ
১২ হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে
কল্যাণ প্যারেড হয়। এতে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যসহ পুলিশ সদর দপ্তর ও রেঞ্জ পুলিশ সদস্য
মিলে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। তাঁদের কাছে লিখিত ফর্মে পোশাক
নিয়ে হ্যাঁ/না মতামত চাওয়া হয়। সেসব ফর্মের মতামত যোগ করে দেখা যায় ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ
পুলিশ সদস্য আগের পোশাক নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট
এবং মহানগর এলাকায় সবুজ (গ্রিন) শার্ট ও গাঢ় প্যান্টের পক্ষে। ২ হাজার ৮১৭ জন পুলিশ
সদস্য অন্য রঙের পোশাক চান; যা শতকরা হিসাবে ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। নতুন সরকার আসার পর পুলিশের আগের
পোশাক নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়। ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদের মতবিনিময় সভা ছিল। সভা শেষে সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী
বলেন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া
হবে। তবে তার আগে মন্ত্রী ওই সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, পুলিশের পোশাক
পরিবর্তন করলে মানসিক পরিবর্তন হবে কি না।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন
এক বিবৃতিতে পুলিশের পোশাকের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেছিল, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি
প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির দীর্ঘ
যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের আগের পোশাকটি নির্ধারণ করেছিল। সে সময় আবহাওয়া, দিনে ও রাতে
দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে দৃশ্যমানতা, পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্য বাহিনীর সঙ্গে
যেন সাদৃশ্য না থাকে—এসব
বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পুলিশের
জন্য যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং সদস্যদের
মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো প্রকার জনমত যাচাই ছাড়াই নির্বাচিত এই পোশাকের সঙ্গে
ইউনিফর্মধারী অন্যান্য সংস্থার পোশাকের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ
সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মতামত উঠে এসেছে। বিষয়টি অ্যাসোসিয়েশনের নজরে
এসেছে এবং বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। বিবৃতিতে
সরকারকে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানায়।
৫ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:২৮:০৭
ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত ১৩ মার্কিন সেনা, আহত ২০০
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হকিন্স জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১৮০ জন সেনাসদস্য চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে এসেছেন। জখম হওয়া সেনাদের শরীরে অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণের টুকরোর আঘাত এবং আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতির মতো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে আক্রান্ত হয়ে তারা হতাহত হন।মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই হতাহতের প্রধান কারণ ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলা। গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ সেনার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির জন্য এই ধরনের ড্রোন দায়ী। ড্রোনের নির্ভুল আঘাত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মার্কিন শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।উভয় পক্ষের এই সরাসরি সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই লড়াই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:১১:৪৬
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোটের মাঠে থাকবেন ৪ বিচারক
বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি অপরাধ দমন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে চারজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা মাঠপর্যায়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।রোববার (০৫ এপ্রিল) ইসির আইন শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ দিদার হোসাইন ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করেছেন।এতে বলা হয়েছে, বগুড়ার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ও মো. কামাল হোসেন এবং শেরপুরের সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান মাহমুদ মিলন ও মো. হাসান ভূইয়াকে ভোটের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও দি কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ১৯০ সেকশন অনুযায়ী অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত বিচার করবেন। একই সঙ্গে প্রতিবেদন কমিশনের পাঠাবেন। তারা ৭ থেকে ১১ এপ্রিল দায়িত্ব পালন করবেন।এদিকে দুই আসনের ভোটে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারকরাও একই পদ্ধতিতে বিচার করতে পারবেন। তারা মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনি আচরণ প্রতিপালন নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে ২০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও। তারা বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করতে পারবেন।
৫ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:২৩:২৬
বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় চারজন মৃত্যু ও ৩৯ জন আহত
লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতের জিন্নাহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রোববার (০৫ এপ্রিল) সরকারি সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, এই হামলায় আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানীতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, দক্ষিণ বৈরুতে কালো ধোঁয়া উড়ছে।এর আগে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কাফরাহতি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় এক শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছে।
৫ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:৩৫:০৩
২২ দিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১১৩ শিশুর মৃত্যু
গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ দিনে সারাদেশে হাম ও হাম সন্দেহে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি শিশুর।রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হাম সন্দেহে সাত হাজার ৬১০ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পরীক্ষায় ৯২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে ১১৩ জন শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।সবচেয়ে বেশি হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩২৫৯ জন শিশু, এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৬৮ জন।এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম সন্দেহে ৬৫৪ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে।মৃত্যুর হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, ৫৫ জন। এরপরই আছে ঢাকা বিভাগ, ১০ জন। এ সময় ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নেই।
৫ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:৪০:৫১
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বরাবরই শীর্ষে ছিল চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর শীর্ষ অবস্থান থেকে ছিটকে গেছে দেশটি। আর এই সুযোগে চীনকে পেছনে ফেলেছে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।আর শীর্ষে থাকা চীন নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভিয়েতনাম দখল করেছে শীর্ষস্থান। আর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও ভারত।রোববার (৫ এপ্রিল) এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)।অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।অন্যদিকে, একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে তাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে।সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।
৬ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০১:৫৭:৩৪
পৃথিবীর সঙ্গে ৪০ মিনিটের যোগাযোগহীনতা!
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী শিগগিরই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, যখন তারা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারাবেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সামার টাইম (বিএসটি) রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে) মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে প্রবেশ করবে, তখন চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যকার রেডিও ও লেজার সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে তখন থেকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে) ৪০ মিনিট নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মহাকাশে ভ্রমণ করবেন। খবর বিবিসির।এখন পর্যন্ত নভোচারীরা নাসার হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন। তবে চাঁদের আড়ালে প্রবেশের পর এই সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, যা মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই সময়টিকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার। তিনি বলেছেন, আমরা যখন সবার সঙ্গে যোগাযোগের বাইরে থাকব, তখন বিশ্বের মানুষ যেন আমাদের জন্য শুভকামনা জানায়।চাঁদের অভিযানে এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের সময়ও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নভোচারীরা। তখন মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে একা অবস্থান করছিলেন এবং প্রায় ৪৮ মিনিট যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি পরে সেই অভিজ্ঞতাকে পূর্ণ একাকিত্ব হিসেবে বর্ণনা করলেও ভয় পাননি বলে জানান।পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের জন্যও এই সময়টি হবে উদ্বেগের। যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন মহাকাশযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকেত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদের আড়ালে যাওয়ার সময় কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মুনলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ৪০ মিনিটে নভোচারীরা চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেবেন। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলে তারা পৃথিবীর সঙ্গে আবার যুক্ত হবেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
৬ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:৫১:৩২
ভোটার তালিকা সংশোধন বিল-২০২৬ পাস
ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।সংসদীয় কার্যক্রমের শুরুতেই স্পিকার বিলটির ওপর দফাওয়ারি সংশোধনীগুলো হাউসে উত্থাপন করেন। এ সময় কোনো সংশোধনী না থাকায় বিলের ধারা ২, ৩ ও ৪ এবং শিরোনাম ও প্রস্তাবনাগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সর্বজনীন ভোটাধিকার নীতি বাস্তবায়নের স্বার্থে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার যৌক্তিক সময় পূর্ব পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়, তাদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ প্রদানের নিমিত্তে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।’আইনমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পূর্ববর্তী অধ্যাদেশটিকে আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংসদের প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে বিল আকারে পাস করার বাধ্যবাধকতা ছিল। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত করা হলে সর্বজনীন ভোটাধিকার নীতি বাস্তবায়ন আরো সহজতর হবে।মন্ত্রী বিলটি পাসের জন্য প্রস্তাব করলে স্পিকার তা ভোটে দেন।ডেপুটি স্পিকারের সঞ্চালনায় সংসদ সদস্যদের ‘হ্যাঁ’ ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়।উল্লেখ্য, ‘ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯’ সংশোধনের লক্ষ্যে গত বছর ‘ভোটার তালিকা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল, যা আজ পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরিত হলো।
৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৮:০১:৪৫
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ৫ দিনের কর্মসূচি
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হবে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে এ কর্মসূচি চলবে। এছাড়া ১১ এপ্রিল দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ১৩ এপ্রিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।মামুনুল হক আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নানা ধরনের ছলচাতুরি করছে। তারা সুস্পষ্টভাবে মানুষের ম্যান্ডেটকে অপমান করেছে।তিনি বলেন, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে বিরোধী দল চুপ থাকতে পারে না। ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তন আমরা রুখে দেব। আমরা গণভোটের রায় যেভাবেই হোক কার্যকর করব। এই দাবির পক্ষে অব্যাহত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টা থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন।