নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ রাত ১১:৩৪:৫৪
বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে বড় হার বাংলাদেশের
পাকিস্তান ইনিংসের শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলাররা মেলে ধরেছিলেন নিজেদের। যেখানে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০০ ছাড়ানোর কথা ছিল, বাংলাদেশ তাদের আটকে রাখে ৩০০-র বেশ আগে। কিন্তু, ব্যাটাররা প্রতিদান দিতে পারেননি। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে আত্মসমর্পন করেছেন পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। যার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান। জবাবে ২৩.৩ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১১৪ রানে।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হয় স্বাগতিক ব্যাটাররা। ১৫ রান তুলতেই সাজঘরে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। ওপেনার সাইফ হাসান (১২ বলে ১২), তানজিদ হাসান তামিম (৭ বলে ১) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (২ বলে ০)—দাঁড়াতে পারেননি কেউই।
এরপর হঠাৎ বন্ধ হয় ম্যাচ। প্রথমে বজ্রপাত, পরে শিলাবৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টার বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হলে নতুন করে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। খেলতে হতো টি-টোয়েন্টি মেজাজে।
বৃষ্টি শেষে অনেকটা টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলছিলেন লিটন। ১৮ বলে করেছিলেন ৩৮ রান। তবে বেশি সময় স্থায়ী হয়নি তার ঝড়। মাজ সাদাকতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ফেরার আগে করেছেন ৩৩ বলে ৪১ রান।
এরপর উইকেটে এসে আফিফ হোসেনও রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তাকেও স্থায়ী হতে দেননি সাদাকাত। ১৫ বলে ৪১ রান করা আফিফকে ফিরিয়েছেন আলীর ক্যাচ বানিয়ে।
দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসনা মিরাজও। তিনি ফিরেছেন ফাহিশ আশরাফের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে করেছেন ৫ বলে মোটে ১ রান। রিশাদ হোসেনকেও (৫ বলে ২) ফিরিয়ে দিয়েছেন সাদাকাত। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত নেন তিনটি করে উইকেট। দুই উইকেট পান শাহিন শাহ আফ্রিদি।
দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের হয়ে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো শাসন করেছেন মাজ সাদাকাত। পুরো সময় টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেন তিনি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে, সেটি করতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন তাকে। ফেরার আগে সাদাকাত করেন ৪৬ বলে ৭৫ রান। ১০৩ রানে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ফারহান করেন ৪৬ বলে ৩১।
শামিল আহমেদকে নাহিদ রানা ফেরালে হঠাৎ চাপে পড়ে পাকিস্তান। ১৯ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান।
চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে মিরাজের বদ্যানতায়। বিতর্কিত এক রান আউটে বিদায় নেন সালমান। এর আগে ৬২ বলে ৬৪ রান করেন সালমান। ৫৯ বলে ৪৪ রান রিজওয়ান ফেরেন এক বল পরেই। রিজওয়ান আউট হলে পাকিস্তান শিবির ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। শেষ ৫ উইকেট হারায় ২২ রানে।
বাংলাদেশের পক্ষে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারকে শেষ করেন তিনি। ৩৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মিরাজ। তার একটি রান আউটে বদলে যায় ম্যাচের মোমেন্টাম।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আগামী ১৫ মার্চ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান : ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪/১০ (শাহিবজাদা ৩১, মাজ ৭৫, শামিল ৬, রিজওয়ান ৪৪, সালমান ৬৪, হুসাইন ৯, সামাদ ১১, ফাহিম ১৪, আফ্রিদি ৩, ওয়াসিম ১, রউফ ২*; তাসকিন ৮-০-৫৯-১, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৩-১, নাহিদ ১০-০-৫৯-১, মিরাজ ১০-২-৩৪-২, রিশাদ ৯.৩-০-৫৬-৩, আফিফ ১-০-৮-০)
বাংলাদেশ : ২৩.৩ ওভারে ১১৪/১০ (সাইফ ১২, তামিম ১, শান্ত ০, লিটন ৪১, হৃদয় ২৮, আফিফ ১৪, মিরাজ ১, রিশাদ ২, মুস্তাফিজ ৪, তাসকিন ৫, নাহিদ ৩*; আফ্রিদি ৫-০-২২-২, ওয়াসিম জুনিয়র ৫-০-২৫-১, রউফ ৪.৩-০-২৬-৩, মাজ ৫-০-২৩-৩, ফাহিম ৪-০-১৮-১)
ফলাফল : পাকিস্তান বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে জয়ী।