নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৮ জুন ২০২৬ রাত ০৬:৩৮:৩৮
উদ্যোক্তা থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে: টিকটকে খামারি পেশাকে তুলে ধরছেন দেওয়ান মো. সবুজ
খামার ব্যবসা বা গবাদিপশু পালন বিশ্বজুড়ে একটি পুরাতন পেশা। বাংলাদেশে জীবিকা নির্বাহের জন্য এখনো এটি অন্যতম প্রধান উপায়। বর্তমানে তরুণরাও কৃষিকাজ এবং খামারি পেশায় এগিয়ে আসছে, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও উঠে আসছে। অনেক উদ্যোক্তা এখন তাদের কৃষিকাজ ও পশুপালন নিয়ে বিভিন্ন কনটেন্ট তুলে ধরছেন সামাজিক মাধ্যমে। দেওয়ান মো. সবুজ তেমনই একজন খামারি, যিনি নিয়মিত তার খামার পরিচালনার নানা অভিজ্ঞতা অনলাইনে তুলে ধরেন।
২০১৯ সালে দেওয়ান তার খামার ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি একটি গাভী কিনেন এবং পরে আরও একটি গাভী কিনেন। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি গাভী দুটি লালন-পালন করেন এবং এখন তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানায় তার এই খামার এবং তিনি নিজেই তার খামারটি দেখাশোনা করেন। এর পাশাপাশি গরু লালন-পালন, মোটাতাজাকরণসহ তার খামারি জীবনের প্রতিদিনের গল্প তিনি তুলে ধরছেন সামাজিক মাধমগুলোতে।
বাংলাদেশের আর দশটা ক্ষুদ্র খামারির মতোই দেওয়ানের যাত্রাও সহজ ছিল না। খামার পরিচালনার ক্ষেত্রে গবাদি পশুর রোগবালাই, খাবারের ব্যবস্থাপনা এবং বায়োসিকিউরিটির মতো চ্যালেঞ্জগুলো ছিল। মূলত এমন বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন করার জন্য দেওয়ান খামার নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা শুরু করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে দেওয়ান বলেন, “শুরুর দিকে আমার একটি গাভীসহ সেটির বাছুর মারা যায়। তখন আমি আর্থিকভাবে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক খামারিদের জন্য এই ধরনের ক্ষতি অনেক বড় একটি বিষয়। তাই নতুনরা যেন ভবিষ্যতে এমন সমস্যায় না পড়ে, এবং বুঝে শুনে এগিয়ে যেতে পারে তার জন্য আমি আমার কনটেন্টের মাধ্যমে কিছু মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করি।”
দেওয়ান মো. সবুজ এখন তার ভিডিওগুলোর মাধ্যমে ষাঁড়-গরুর যত্ন, খাবার তালিকা এবং রোগ-বালাই প্রতিরোধের মতো ব্যবহারিক ও প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টিকটক প্ল্যাটফর্মে তিনি 'দেওয়ান অ্যাগ্রো বাংলাদেশ' (@sabuzdewan7) নামে পরিচিত। কনটেন্ট তৈরির বিষয়ে দেওয়ান আরও বলেন, “আমার মনে হয় টিকটকে ভিডিওগুলো সবচেয়ে বেশি মানুষের নজরে আসে। বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বেই অসংখ্য মানুষ প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছে। ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের তুলনায় এই প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে দ্রুত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। তাই আমি টিকটক থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। এছাড়া, আমার মনে হয় মানুষ আমার কনটেন্টের ধরন পছন্দ করে বলেই তারা আমার কনটেন্টের প্রতি আগ্রহী।”
এবারের ঈদুল আজহায় গরুর ব্যবসা নিয়ে দেওয়ান বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এবারের ঈদে আমি বেশ ভালো লাভ করেছি। আমার যতটুক লাভ হয়েছে, তার জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।” নতুন খামারিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শুরু করার আগে অবশ্যই গবাদিপশু লালন-পালন ও খামার সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। শুরুতেই বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করলে লোকসানের ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা উচিত। খামারিদের নিজেদের মূল্যায়ন করাও জরুরি, তারা ব্যক্তিগতভাবে এখানে কতটা সময় ও শ্রম দিতে পারবেন সেটাও ভাবতে হবে।”
দেওয়ানের মতো আরও অনেক ক্রিয়েটর এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের ও আগ্রহীদের কাছে নানান তথ্য ও পরামর্শ পৌঁছে দিচ্ছেন। একইসাথে গ্রামীণ জীবন, কৃষি-খামারের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সাধারণ দর্শকরাও জানতে পারছেন।