শামীম আহমেদ জয়, মতলব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬ দুপুর ০১:০৮:৪৮
ঘুষ না দিয়ে মতলব উত্তরের খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষক
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকরা প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী চাষিদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে কোনোভাবেই ধান জমা নেওয়া হচ্ছে না। শুধু ঘুষের হয়রানিই নয়, এখানে ঘটেছে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনাও। লটারিতে নাম ওঠা অনেক সাধারণ কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে তাদের অজান্তেই ধান বিক্রি দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়েছে একটি চক্র।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক তানভীর হোসেন জানান ঘুষের টাকা না দিলে সরকারি খাদ্য গুদামে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির কোন সুযোগই নেই।”তার কাছ থেকে শ্রমিক মজুরি, অফিস খরচ ও বিভিন্ন খরচের কথা বলে খাদ্য গুদামের অফিস সহকারী সাদ্দাম হোসেন ৫৫০০ টাকা নিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম গোপন করে ফরাজী কান্দি ইউনিয়নের কৃষক হাফেজ বিল্লাল হোসনের সাথে কথা বললে তিনি জানান,অফিস খরচ বাবদ তিনি ৬০০০ টাকা দিয়েছেন। প্রতিবেদক চাইলে তার কথা বলে ৬০০০ টাকা দিতে পারে।
মতলব উত্তর উপজেলা’র কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, উপজেলা কৃষকরা কষ্ট করে ধান উৎপন্ন করেন আর ভাগ্যগুণে লটারিতে নাম উঠে। কিন্তু, সেই ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি চলে খাদ্য গুদামে। “ঘুষের টাকা না দিলে ভাগ্য টিকে না সরকারি খাদ্য গুদামে। হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিতে হয় গুদাম কর্মকর্তাকে।তিনি জানান অফিস খরচ বাবদ তাকেও ৩০০০ টাকা দিতে হয়েছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ মোল্লা জানান,তিনি জানে না কে তার আইডি কার্ড দিয়ে সরকারি গুদামের ধান বিক্রি করেছে।
মতলব উত্তরের খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন,যে টাকাটা নেওয়া হয়েছে সেটা সরকারের ভ্যাট আইটি ও লেবার খরচ এক্ষেত্রে অফিস সহকারী যদি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত)জনাব মোঃ আব্দুর রহমান খান জানান,এই অনিয়মের বিষয় নিয়ে অবগত নই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি,লটারি বিষয়টা হচ্ছে সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক, এখানে আমাদের কিছু করার আছে কিনা খতিয়ে দেখছি। যেসব অভিযোগ উঠেছে সত্যতা প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে চলতি মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০৯ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয়ের অভিযানের আওতায় ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৯২৩ টন ধান এবং ৩৮ টন চাল সংগ্রহ করা হবে।