উপজেলা প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬ রাত ১০:১৫:২১
ঈশ্বরদীতে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, পণ্ড সংবর্ধনা
পাবনার ঈশ্বরদীতে একজন শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা বিএনপির এক নেতাকে অনুষ্ঠানের অতিথি না করাকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং দ্বন্দ্বের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসরে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকসহ ১২ থেকে ১৫ জন লাঠিসোটা নিয়ে মঞ্চে হামলা চালান। এ সময় চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করে অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং দ্বন্দ্বের কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অনুষ্ঠানের অতিথি না করায় তাঁর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এতে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের হামলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা করে সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, অতিথিরা অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর আগেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।