বগুড়ার শেরপুরে (মকটেল আইল্যান্ড বিনোদন পার্ক ও রেস্টুরেন্ট) একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. সামির হোসেন মিশু (৫৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃত ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা এবং মরহুম ডা. সাফদার হোসেনের ছেলে। তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শেরপুর শহিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ঘাটপারে (মকটেল আইল্যান্ড বিনোদন পার্ক ও রেস্টুরেন্ট) জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বগুড়া সদর থানার মামলা নং-৭৭, তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৫-এর এজাহারভুক্ত আসামি।বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
৪ ঘন্টা আগে
একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে বর্তমান সরকারের আমলে দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।বিরোধীদলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলছে। অথচ তাদের নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে দাবি করে রিজভী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী যুগোপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে আর পরনির্ভরশীল অবস্থায় রাখা হবে না।গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে আত্মনির্ভর ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৪ ঘন্টা আগে
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও লোকসংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, মমতাজকে আদালতে হাজির করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আবেদন সমর্থন করেন। অন্যদিকে, মমতাজের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন।গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনার সঙ্গে মমতাজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় বাদী ও ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিংপুল ও ফায়ার সার্ভিস সড়ক এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় আন্দোলন দমনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হন মুক্তার হোসেন। পরে তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে মমতাজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।লোকসংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালেও একই আসনে জয় পান। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
৪ ঘন্টা আগে
ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের সময় বলেছিল, তারা নির্বাচিত হলে ফ্যাসিবাদের হাতে যতগুলো খুন, গুম, নির্যাতন হয়েছে, সবগুলার বিচার তারা করবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে।তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে পৃষ্ঠ এই জাতিকে আল্লাহতালা আমাদের ছাত্র, শ্রমিক, যুব জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুটি বছর আগে আমাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই সময়ে যে দলটি আমাদের মতই মজলুম ছিল, নির্যাতিত ছিল। আজকে তারা ক্ষমতায়। তারা তখন প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছিল। জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল, নির্বাচিত হলে ফ্যাসিবাদের হাতে যতগুলো খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, নির্যাতন হয়েছে, সবগুলার বিচার তারা করবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে। বিচার তো তারা করছেই না। গত চার মাসে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নির্ভমভাবে বাংলার মাটিতে খুন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয় নগরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম খুনের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনক, এই দলটি নিজেরা নিজেদের কর্মীই খুন করেছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোনো দায় এবং দরদ থাকে না। ২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কী দায় এবং দরদ থাকবে? আমরা কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না।তিনি বলেন, লজ্জার বিষয় বিএনপি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাঁটা শুরু করেছেন।আমিরে জামায়াত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলো দলীয় অনুগত লোকদের দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া, এমনকি খেলার মাঠটা পর্যন্ত তারা দলমুক্ত রাখতে পারলেন না। এইভাবে তারা আবার কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকেই আগাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কিন্তু বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন। আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রত্যেকটি বিষয় সেখানে আমরা প্রতিবাদ করছি। দুই তৃতীয়াংশ ভোট কীভাবে পেয়েছেন আপনারাই ভালো জানেন। আর এ দেশের জনগণও জানে এবং এই ব্যাপারে কিছু রাজ সাক্ষীও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। আপনাদের দলের ভেতর থেকে পাওয়া গেছে। বিগত সরকারের মধ্য থেকেও পাওয়া গেছে।বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমির বলেন, বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব। মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না। মেহেরবানী করে বিচারগুলো নিশ্চিত করুন। শুধু ফ্যাসিবাদের হাতে কেন? এই রাস্তায় আমাদের কলিজার টুকরা বিপ্লবের প্রতীক শরিফ উসমান হাদিকে হত্যা করে তার বিচার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত মামলার চার্জশিট দেওয়া হয় নাই। কাকে খুশি করার জন্য, কোন সত্যকে আড়াল করার জন্য, এটা করা হচ্ছে জনগণ জানতে চায়।তিনি বলেন, এদেশের মানুষের অন্তরে, কলিজায়, হৃদয়ে, মগজে সব জায়গায় বসে আছে মজবুত ভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। এই আদর্শকে নির্মূল করার চিন্তা করবেন না। যদিও আপনাদের একজন সিনিয়র নেতা ঘোষণা করে দিয়েছেন নির্মূল করবেন। অতীতে যারা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা নিজেরাই আজকে নির্মূল হয়ে গেছে।তিনি বলেন, বেশি নির্মূল, নির্মূল করবেন না। এটা এক ধরনের ভাইরাস। এই ফ্যাসিবাদের ভাইরাস, চাঁদাবাজির ভাইরাস, দুর্নীতির ভাইরাস, দলীয় শাসনের ভাইরাস, এই সব ভাইরাস মুক্ত করার জন্য আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
২০ ঘন্টা আগে