নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০১:১৮:০২
অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনার যোগীপোল এলাকার মো. রাকিবুল ইসলাম (৩০), তেরখাদার আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), দৌলতপুর এলাকার শেখ সাকির আহম্মেদ এবং খালিশপুরের মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)।
সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংয়ে দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হতো।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, এসব সাইটে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে বলা হতো। পরে জমা করা অর্থের সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে যুক্ত করা হতো।
সিআইডির দাবি, চক্রটি অবৈধ লেনদেনের জন্য বিভিন্ন এলাকার এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠাত। এসব নম্বর ও হিসাব বেটিং সাইটে প্রদর্শনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন।
সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন রেখে বাকি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে সিআইডি।
এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রটির মূলহোতাসহ দেশি-বিদেশি অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।