রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ রাত ১০:৫২:৫৮
বগুড়ায় বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ, নকশা অনুমোদনের বাইরে শতাধিক ভবন
বগুড়া শহরে দিন দিন বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। কিন্তু এসব ভবনের উল্লেখযোগ্য অংশই নির্মিত হয়েছে যথাযথ নকশা অনুমোদন ছাড়াই। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ চললেও কার্যকর তদারকি ও আইনি ব্যবস্থা না থাকায় নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এতে যেমন নগর পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি জননিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়া শহরে বর্তমানে প্রায় ৫০০টি বহুতল ভবন রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ভবনের নকশা অনুমোদিত নয়। আবার কিছু ভবন পৌরসভার অনুমোদন পেলেও বর্তমান সিটি করপোরেশনের বিধি কিংবা গণপূর্ত বিভাগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতীতে বগুড়া পৌরসভা থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পরও অনেক ভবন অনুমোদনের বাইরে থেকেই নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি অনুমোদনের আগেই বহুতল ভবনের কাজ শেষ করার ঘটনাও ঘটেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বহুবার অনুমোদনহীন ভবনের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে নিয়ম না মেনেই একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। ভবনের নকশা, অগ্নিনিরাপত্তা, ভূমিকম্প সহনশীলতা এবং পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদনবিহীন ভবনের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদন বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধে শুধু তালিকা তৈরি করলেই হবে না; নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের আগে অনুমোদন গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বগুড়া শহরে অনুমোদনহীন বহুতল ভবনের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নগর ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তা উভয়ই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।