রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ রাত ১১:২৪:৩৯
সরকারি ফি ১১৯০ টাকা, অভিযোগ ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের
বগুড়ার ধুনট উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি (খারিজ) সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জমির মালিকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে খারিজ করতে তাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের তীর নিমগাছী ইউনিয়নের ভূমি তফশিলদার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
জমির মালিকদের ভাষ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নামজারি (খারিজ) করতে নির্ধারিত ফি প্রায় ১১৯০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, জমির পরিমাণ অনুযায়ী খারিজের জন্য ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
‘সরকারি আবেদন করেও কাজ হয় না’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনলাইনে বা সরকারি নিয়মে আবেদন করলেও অনেক আবেদন দীর্ঘদিন আটকে থাকে। পরে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে আবেদন ফেরত দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
জমি সংক্রান্ত কাজে উপজেলা ভূমি অফিসে আসা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, তারা খাজনা ও নামজারির কাজে এসেছেন। তাদের অভিযোগ, ছোট আকারের জমির খারিজের জন্যও কয়েক হাজার টাকা দাবি করা হয়
সোনাহাটা ডিগ্রী কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল নুরু বলেন আমার কাছ থেকে খাজনা বাবত ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছে তফসিলদার ইউনিয়ন ভূমি আনোয়ার হোসেন, আরেকজন ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান আতিক বলেন আমার কাছ থেকেও ২৯ হাজার টাকা নিয়েছে।
তাদের দাবি, জমির পরিমাণ কম-বেশি অনুযায়ী ৮ হাজার, ১০ হাজার থেকে শুরু করে এক বিঘার বেশি জমির ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সেবাপ্রার্থীদের প্রশ্ন
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, সরকারি ফি নির্ধারিত থাকার পরও কেন অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে? ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ কেন হয়রানির শিকার হবেন—এ বিষয়েও তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি তফশিলদার আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী ধুনট উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।