মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:২২:০২
মিরতিংগা চা বাগানে বৃক্ষ নিধন: উদ্বেগে কর্তৃপক্ষ, সুষ্ঠু বিচারের দাবি শ্রমিকদের
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ছায়া বৃক্ষ নিধন ও চুরির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বাগান কর্তৃপক্ষ যেমন দুশ্চিন্তায় রয়েছে, তেমনি চা শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।
দেউন্দি টি কোম্পানী লিমিটেডের অধীনস্থ এই চা বাগানে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটে। বাগান সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনটি এবং ১৬ এপ্রিল একটি ছায়া বৃক্ষ চুরি হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়, ফলে কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তা স্থায়ী হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিল গভীর রাতে আরও বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাগানের ১৮ নম্বর থেকে ২০ নম্বর সেকশন পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে রোপণ করা ৭১টি একাশিয়া প্রজাতির ছায়া বৃক্ষ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। পরে কাটা গাছগুলো ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছায়া বৃক্ষ চা বাগানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো চা গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে এ ধরনের নির্বিচার বৃক্ষ নিধন বাগানের উৎপাদনশীলতা এবং পরিবেশ—উভয়ের জন্যই হুমকিস্বরূপ।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সেকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ইতোমধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের নামের তালিকাসহ কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
মিরতিংগা চা বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনার পরপরই থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
এদিকে বাগান পঞ্চায়েত ও সাধারণ চা শ্রমিকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, চা শিল্প রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ছায়াদানকারী বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ধনা বাউরী এবং মিরতিংগা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিকও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাগান কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাগানটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই চা শিল্প রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।