রাকিবুল ইসলাম (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ২ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:০৩:০১
রায়পুরে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও জৈব সার ব্যবহারের প্রসারে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে এক বর্ণাঢ্য মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের টাকুরারচর এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।
ক্ষুদ্র কৃষক কৃষি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প (SACP-RAINS)-এর অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘ক্লাইমেট স্মার্ট টেকনিক্যাল প্যাকেজ’-এর অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচো সার) প্রদর্শনী প্লটের সাফল্য তুলে ধরাই ছিল এই মাঠ দিবসের মূল লক্ষ্য।
টাকুরারচর এলাকার কৃষক আব্দুর রব বলেন, আগে আমরা শুধু ইউরিয়া আর টিএসপি সারের ওপর নির্ভর করতাম। এতে মাটির যেমন ক্ষতি হতো, খরচও হতো অনেক। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার আমি কেঁচো সার ব্যবহার করেছি। দেখছি গাছের চেহারা অনেক ভালো এবং ফলনও বিষমুক্ত। আজকের এই আলোচনা থেকে শিখলাম কীভাবে নিজেরাই বাড়িতে এই সার তৈরি করা যায়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃষাণী সুফিয়া বেগম তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন,
বাড়ির আঙিনায় অল্প জায়গায় কেঁচো সার তৈরি করা সম্ভব, এটা আগে জানতাম না। এখন থেকে আমি নিজেই এই সার তৈরি করব। এতে আমার রান্নার সবজি নিরাপদ হবে, আবার বাড়তি সার বিক্রি করে কিছু টাকাও আয় করতে পারব। আমাদের মতো নারীদের জন্য এটা অনেক বড় একটা সুযোগ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি। তিনি বলেন, "মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে ভালো ফলন পাওয়া অসম্ভব। ভার্মিকম্পোস্ট মাটির প্রাণ ফেরাতে জাদুর মতো কাজ করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জহির আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের 'ক্লাইমেট স্মার্ট' হতে হবে। বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিগুলো প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি।
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে রায়পুরের কৃষি ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।