মু. সাইফুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর সদর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ রাত ০৭:২০:০৭
কোরবানির প্রস্তুতিতে এগিয়ে লক্ষ্মীপুর, ৯০ হাটে উঠবে প্রায় ৯৬ হাজার পশু
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৯৫ হাজার ৪৭৭টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। স্থানীয় চাহিদা পূরণ শেষে উদ্বৃত্ত থাকবে ৬ হাজার ২৬২টি পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ৮৯ হাজার ২১৫টি। এ চাহিদা পূরণে জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ছোট-বড় খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে খামারিরা পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে খামারিরা জানান, পশুখাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবারের কোরবানির পশুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে তারা দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় বিদেশ থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “লক্ষ্মীপুরে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত কোরবানির পশু রয়েছে। বাইরে থেকে যাতে কোনো পশু না আসে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটে ২০টি মেডিকেল টিম কাজ করবে।”
এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলায় ৯০টি পশুর হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২০টি স্থায়ী ও ৭০টি অস্থায়ী হাট রয়েছে। হাটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণে কাজ করবে পুলিশ। পাশাপাশি টহল পুলিশ ও সাদা পোশাকের সদস্যরা নিরাপত্তা জোরদার করবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বলেন, “পশুর হাটের নিরাপত্তায় আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় পশুবাহী গাড়ি থেকে যাতে চাঁদাবাজি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। জাল টাকা শনাক্ত, গরু চুরি প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। খামারিদেরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”