নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ৭ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:৫৯:১৮
নাজিরপুরে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার আবেদন করেও স্বপদে বহাল সিএইচসিপি, সমালোচনার ঝড়
জানা যায়, মো. আমানুল্লাহ বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন পদ্ধডুবি কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল আবেদন করে ৯ মে ২০২২ তারিখ থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানান।
সূত্র জানায়, ওই অব্যাহতির আবেদনপত্র ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল গ্রহণ করেন নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, আবেদনপত্র গ্রহণ ও অনুমোদনের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একই পদে চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী বলে স্থানীয়দের দাবি।
সরকারি বিধান অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী স্বেচ্ছায় অব্যাহতির আবেদন করলে এবং তা গৃহীত হলে তার চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ থাকে না। অথচ এ ক্ষেত্রে অব্যাহতির আবেদন গ্রহণের পরও চাকরি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩ নম্বর দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য মো. আমানুল্লাহ বাহাদুর স্বেচ্ছায় অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপর আবারও তিনি একই পদে চাকরি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মো. আমানুল্লাহ বাহাদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, “ওই আবেদনপত্র আমরা গ্রহণ করেছি। তবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা আমাদের নেই। পত্রটি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।”
পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, “বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। তবে কেউ যদি অব্যাহতির আবেদন করে এবং সেটি গৃহীত হয়, তাহলে তার চাকরিতে ফিরে আসার সুযোগ থাকে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বলা যাবে।”
উল্লেখ্য, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগ দিয়ে থাকে। এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।