ফকির আতিয়ার রহমান, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ রাত ০৯:৩৮:০৯
রামপালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করল প্রশাসন
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ৬ নম্বর হুড়কা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযুক্ত ব্যক্তি সুজন মজুমদার নামে এক ব্যক্তি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হুড়কা ইউনিয়নের অতিপুর এলাকায় কৃষিজমি ও মাছের ঘের সংলগ্ন স্থানে ভাসমান ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। পরে সেই বালু বিভিন্ন স্থানে ভরাট কাজে ব্যবহার করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমির ক্ষতি, পানি নিষ্কাশনে বাধা এবং ধানক্ষেতে পলি জমে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখাতেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
জমির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে জানানো হয়। পরে রামপাল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজার মেশিন চালু অবস্থায় দেখতে পান এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
এ সময় ড্রেজার চালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত সুজন মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি জানালে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ড্রেজার চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন উপস্থিতরা।
পরে বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করা হলে প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেজার মেশিন অপসারণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “অবৈধ বালু উত্তোলন দেশের পরিবেশ, নদী ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুজন মজুমদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।