মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৮:১৪:১৭
নওগাঁয় জ্বালানি সংকট: দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি, কালোবাজারে বাড়ছে তেলের দাম
দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁয়। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে রাত থেকে দিন পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ফুয়েল কার্ড চালুর পর ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জেলায় জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের পাশাপাশি জারিকেনে করে তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়েছে। এতে করে কালোবাজারে চড়া দামে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। বর্তমানে অনেক চালক একদিন পরপর তেল পাচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সদর উপজেলার পার-নওগাঁ এলাকার ফারুক হোসেন বলেন, “আমি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করি। সারাদিন কাজ শেষে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। এতে বিশ্রামের সুযোগই পাচ্ছি না।”
একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মী হাসান বলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাইরে কাজ করি। গভীর রাতে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যেতে হচ্ছে।”
মহাদেবপুর উপজেলার কৃষক সুমন হোসেন বলেন, “রাত ৩টা থেকে সেচ মেশিন নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সঙ্গে ছোট ছেলে আছে। তেল না পেলে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে না।”
ট্রলি চালক মিজান জানান, “সারাদিন কাজ করার পর সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে দ্বিগুণ দামে তেল কিনতে হচ্ছে। এক লিটার ডিজেল ২০০ টাকা দিয়ে কিনেছি।”
এদিকে, তেলের সংকটে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। চালকেরা এক ফিলিং স্টেশন থেকে অন্যটিতে ছুটছেন, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ মানুষও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
যানবাহন চালকদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুদের কারণে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।