মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৯:৫৬
মৌলভীবাজারে জ্বালানি-শ্রমিক সংকটে লাভের মুখ দেখবেন কি না, দুশ্চিন্তায় কৃষক
মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে সোনালি আভায় সেজে উঠেছে ফসলের মাঠ। জমির পাকা ধান কেটে নিরাপদে গোলায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। তবে, জ্বালানি ও শ্রমিকের চড়া বাজারের কারণে লাভের মুখ দেখতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে তাদের।
এ জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এ মৌসুমে ধানের ফলন ভাল হলেও উৎপাদন খরচের বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের উদ্বেগ চলছে। বিশেষত সেচের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে মোট ৬২,৪০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। তবে কুরাউড়ার হাকালুকি হাওরের ১২ হেক্টর এবং জুড়ী উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমির ধান জলে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। এছাড়া, রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওলে ২৮ হেক্টর ধানও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া, হাওর এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা ধান কাটা ও মাড়াই করতে পারছেন না। লোডশেডিংয়ের কারণে মনু প্রকল্পের আওতাধীন কাউয়াদীঘি হাওরের পানি সেচ দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে ফেলতে পারছেন না। ফলে, নিচু এলাকায় ধান নিমজ্জিত হচ্ছে।
কাউয়াদীঘি হাওরপারের কৃষক আব্দুল করিম জানান, "এ বছর ১০ কিয়ার জমিতে বোরো চাষ করেছি। ফসল ভালো হয়েছে, কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ছড়ার সঙ্গে পানি লেগে গেছে। কাশিমপুর পাম্প হাউস ঠিকমতো কাজ না করায় বিপদে পড়েছি।"
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, "ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু সার, বীজ, জ্বালানি এবং শ্রমিকের খরচ এত বেশি যে, ধান বিক্রি করে লাভ হবে কিনা তা বুঝতে পারছি না। সরকার যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করে, তবে লোকসান গুনতে হবে।"
এদিকে, হাওর রক্ষা আন্দোলন সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন জানান, "মনু ও কুশিয়ারার পানি নিয়ে যে সমস্যা চলছে, তা নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৭০০-৮০০ টাকা দরে বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে, এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।"
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিল অলীদ বলেন, "কাশিমপুর পাম্প হাউজ চালুসহ ব্যারেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। পাম্প হাউজ সব সময় মনিটরিং রয়েছে।"
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, "আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ধান আবাদ অর্জিত হয়েছে। হাওর এলাকায় ৫% ধান পাঁকায় এবং পুরোধমে কাটা শুরু হয়েছে। কাশিমপুর পাম্প হাউজ নিয়ন্ত্রণ করে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড।"
এভাবে একদিকে ফসলের ভালো ফলন, অন্যদিকে ব্যয়বহুল উৎপাদন খরচ কৃষকদের জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে এই সংকট কাটাতে পারে।