নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১:৪২:২৭
ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই মার্কিন অবরোধের কবলে
ইরানের বন্দরগুলো ব্যবহার করে সমুদ্রপথে পরিচালিত সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সংস্থাটির প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল এবং অবরোধ আরোপের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন বাহিনী সেই বাণিজ্যিক পথগুলো ‘পুরোপুরি কার্যকর’ ভাবে রুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রসীমায় মার্কিন বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে এবং ইরানের ভেতরে বা বাইরে কোনো ধরনের পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করতে পারছে না।
মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরগুলোতে যেকোনো দেশের জাহাজ প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এই অবরোধ অত্যন্ত কঠোর ও ‘নিরপেক্ষভাবে’ কার্যকর করা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয় বরং ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা যেকোনো আন্তর্জাতিক নৌযানই মার্কিন নজরদারির আওতায় থাকবে।
অবরোধ নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর উচ্চ প্রশিক্ষিত ও অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, প্রতিটি ডেস্ট্রয়ারে ৩০০-এর বেশি নৌসেনা রয়েছেন যারা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় পারদর্শী, যা এই অবরোধের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর এই চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির মূল লক্ষ্য হলো দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে তেহরানকে ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা।
মার্কিন এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে যেমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে তেলের বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে ইরান এই নৌ-অবরোধের বিপরীতে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এক উত্তেজনাপূর্ণ শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
সমুদ্রপথে ইরানের এই ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে দ্রুত এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই নিরঙ্কুশ অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎকেও এখন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা