নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৩১:২০
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। এটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। রাডারটির মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের হামলায় জর্ডানের মুয়াফফাক
সালতি বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারটি ধ্বংস হয়। যুদ্ধ শুরুর প্রথম
দিকেই এই হামলা চালায় ইরান।
স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আরটিএক্স কর্পোরেশনের
তৈরি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং এর সহায়ক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। এই রাডারটি
যুক্তরাষ্ট্রের থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত
হয়ে থাকে।
থিঙ্ক ট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের তথ্য
অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
একটি হামলা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং আরেকটি ৩ মার্চ। দুটি
হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও রাডার ধ্বংসের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায়
আসে।
ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সেন্টার অন মিলিটারি
অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রোবস্ট বলেন, হামলাটি সফল হয়ে থাকলে
এটি ইরানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সামরিক সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
থাড বা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থা
মূলত আকাশের উচ্চ স্তরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এটি স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়টের
তুলনায় জটিল হুমকি মোকাবিলায় বেশি কার্যকর।
রাডারটি অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের
দায়িত্ব অনেকটাই প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। তবে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের
মজুত ইতোমধ্যে কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি থাড ব্যবস্থা
মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও এ ব্যবস্থা রয়েছে। একটি থাড ব্যাটারির
দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রাডারের মূল্যই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, এই ধরনের রাডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কৌশলগত সম্পদ এবং এর ক্ষতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুদ্ধের শুরুতে কাতারে মোতায়েন করা আরেকটি মার্কিন
রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণা সংস্থা জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ
জানায়, ইরানের হামলায় এএন/এফপিএস-১৩২ নামের দূরপাল্লার সতর্কতা রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার
করে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়তি চাপের মুখে
পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে
পারে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ