নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৮ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:০১:২৮
কড়া শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে ইরান। তবে এই সম্মতির পাশাপাশি কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছে তেহরান, যা পুরো পরিস্থিতিকে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রেখেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস অরঘচি এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ ও আলোচনার প্রস্তাবের ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখা হয়, তবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান স্থগিত রাখবে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ প্রতিপক্ষ কোনো ধরনের আক্রমণ চালালে বা সমঝোতা ভঙ্গ করলে, ইরানও দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে। ফলে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থার ওপর।
একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য এই প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা হবে, তবে তা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখেই পরিচালিত হবে।
তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই চলমান সংঘাতের সমাপ্তি নির্দেশ করে না। বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি মাত্র, যার মাধ্যমে আলোচনার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই দুই নেতা অঞ্চলে যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী শুক্রবার থেকে ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। এই আলোচনা যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, দুই সপ্তাহের এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আবারও দ্রুত সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।