নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০২:০৮:০৫
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর হবে না: ইরান
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও দেশের কাছে স্থানান্তর করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
১৭ এপ্রিল শুক্রবার এক বার্তায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-তে কথা বলার সময় ইসমাইল বাঘাই জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচির সাম্প্রতিক বক্তব্য ৮ এপ্রিল ঘোষিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যেই ছিল। এটি নতুন কোনও কূটনৈতিক আলোচনার সূচনা নয়।
এর আগে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থান স্পষ্ট করে বাঘাই বলেন, শুক্রবার লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে উল্লিখিত নিরাপদ চলাচলের শর্তগুলো প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নতুন কোনও চুক্তিতে পৌঁছাইনি। ৮ এপ্রিল যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এটি সেই চুক্তিই।
বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতির শুরু থেকেই তারা লেবাননে এর শর্তাবলী কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের দাবি, ৮ এপ্রিলের চুক্তিতে এই বিধানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও ওয়াশিংটন ও জেরুজালেম ইরানের এই ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রাখলে ইরান ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাঘাই। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সংঘাত নিরসন ও ইরানের স্বার্থ রক্ষায় অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ভূখণ্ডে যৌথ হামলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। এরপর গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা অবরোধ আরোপ করে, যা ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে শুক্রবার উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতির সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই সপ্তাহান্তে অর্থাৎ সম্ভবত রবিবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হতে পারে।
সূত্র: সিনহুয়া