শান্ত মাহমুদ , ঢাকা
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:৫৭:০৬
বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ নারী উদ্ধার
বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ নারীকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। উদ্ধার হওয়া নারীদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তাঁদের উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে চীনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
এসআরবি-১-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে এসআরবি-১-এর সিপিসি-২-এর একটি দল উত্তরা পশ্চিম থানাধীন যমযম টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ দুই নারীকে উদ্ধার করে। তাঁরা হলেন মেমাচি মারমা (১৫) ও মাংশানু মগনি (১৮)। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই নারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ২৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ২৭ অক্টোবর রাত ১টা পর্যন্ত রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ২৯৪১ নম্বর বাসা, ৫৬ নম্বর সড়কের এল ব্লকের সপ্তম তলায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আরও ১০ নারীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অন্য নারীরা হলেন রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মার্মা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) ও আদর্শী চাকমা (২১)।
এসআরবি-১ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাঁদের চীনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ বেতনে চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে তাঁদের একটি বাসায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভন দেখানো হয় বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া ১২ নারীকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এসআরবি-১ আরও জানিয়েছে, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।