নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৬:৫১:৪০
হামলার হুমকি নেই, তারপরও আমরা সতর্ক: র্যাব ডিজি
র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, জঙ্গি হামলার কোনো থ্রেট (হুমকি) নেই, তারপরও আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে র্যাব মহাপরিচালক এ কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সর্বাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবার নির্বাচনের মাঠে থাকবে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি। পুলিশ ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা নিয়ে মাঠে থাকবে।
শহিদুর রহমান বলেন, যারা নির্বাচন বিধি লংঘন যারা করছেন তারা কিন্তু ধরা পড়ছেন। র্যাব মিলে সব বাহিনী এবার নির্বাচনে কাজ করছে। কোনো কেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
র্যাব ডিজি বলেন, কোনো কেন্দ্রে গণ্ডগোল হলে সেই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করবে রিটার্নিং অফিসার। পরবর্তীতে সেই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আমাদের কোনো ঝুঁকি নাই। তবে ঝুঁকি তাদের আছে যারা জাল ভোট দিতে যাবে, গণ্ডগোল করার চেষ্টা করবে, যারা আইন অমান্য করবে, আইন লঙ্ঘন করবে। র্যাবের কোনো ঝুঁকি নাই।
নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে র্যাবের অবস্থান তুলে ধরে ডিজি বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়- এমন কাজগুলো যাতে করতে না পারে এজন্য আমরা সবসময় সজাগ দৃষ্টিতে থাকি। সেই কারণে যারা এ ধরনের অপরাধ করে তারা কিন্তু ধরা পড়ে যাচ্ছে। আজকে এখন থেকে নির্বাচন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকব। আমরা আশাবাদী যে এই ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো যাতে ঘটতে না পারে। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আপনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সবাই মাঠে কাজ করছে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা বাকি সময়টাও সুন্দরভাবে কাটাতে পারব।
নির্বাচনে কত সংখ্যক র্যাব সদস্য মাঠে কাজ করছে জানতে চাইলে র্যাব ডিজি বলেন, আমরা কিন্তু সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। আমাদের র্যাবের যে সংখ্যা তা দিয়ে আপনার এই প্রায় আমাদের কত ভোট কেন্দ্রের যে সংখ্যা এতগুলা সংখ্যা কোনভাবেই কাভার করা যায় না। আমরা সবগুলো বাহিনী সমন্বিতভাবে এবং আমাদের মধ্যে একটা চমৎকার সমন্বয় আছে। সেভাবে কাজ করছি। মানে যতখানি সম্ভব ড্যামেজ কন্ট্রোল করার জন্য আমরা চেষ্টায় আছি।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমরা আশা করব কোনো কেন্দ্রে কিছু হবে না। এটা হলো আমাদের প্রত্যাশা। তারপরও যদি কোথাও এই ধরনের বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে এবং যদি ভোট গ্রহণের মতো পরিবেশ না থাকে তাহলে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকবে। যদি ওই কেন্দ্র একেবারেই বন্ধ করা হয় কিংবা নির্বাচন কমিশনও বলেছে যদি ভোট গ্রহণ সম্ভব না হয় ওই কেন্দ্র এবং প্রয়োজন হলে ওই আসনের ভোটও বন্ধ হতে পারে, নির্বাচন কমিশন যেরুপ মনে করবে। সুতরাং একটা দুইটা কেন্দ্রে যদি এই ধরনের গন্ডগোল হয় সেখানে পরে আবার ভোট হবে।
ঝুঁকির প্রশ্নে র্যাব ডিজি বলেন, ঝুঁকি অবশ্যই আছে, ঝুঁকি কেন থাকবে না। আমি মনে করি এইবার নির্বাচনে ঝুঁকি তাদের আছে যারা নির্বাচন ব্যহত করতে চাইবে, নির্বাচনে জালভোট দিতে যাবে, নির্বাচনের ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে যাবে, নির্বাচন কেন্দ্রে আক্রমণ করবে, তাদেরকে বোধ হয় প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে এবার পড়তে হবে এবং নির্বাচনের ফলাফল যদি মেনে না নিয়ে তারা নাশকতা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবো। এখানে আমরা কোনো রকম হেজিটেট করবো না, সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবো। ঝুঁকি যদি কারো থাকে, যারা আইন ভঙ্গ করবে আইন অমান্য করবে, যদি আইন ভঙ্গ করে ঝুঁকিটা তাদের। আমাদের মনে করি কোনো ঝুঁকি নাই। কারণ আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করব। আইনের যে ম্যান্ডেট সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব।
সারাদেশে র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন নিয়ে মহাপরিচালক বলেন, অলরেডি আমরা এবার স্ট্রাইকিং এবং মোবাইল হিসেবে কাজ করব। সারা দেশের ৬৪ জেলা এবং আটটি মেট্রো এলাকায় আমাদের টিম চলে গেছে এবং গত ৮ তারিখ থেকেই তারা মোতায়েন আছে। তারা কাজ করে যাচ্ছে। কালকেও তারা কাজ করবে। তো আমরা আশা করি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।