নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১০:৪২:১৪
প্রধানমন্ত্রীর ফোনে অপহরণের ১ ঘণ্টায় উদ্ধার স্কুলছাত্র
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অপহরণের ১ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে আফফান সাঈদ ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর চামেলীবাগে সাত তলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অপহৃত স্কুলছাত্র আফফান সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম আহমেদের ছেলে।
সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে সাইকেল চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হয় আফফান সাঈদ। তবে কিছু সময় পরই আফফানের ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একমাত্র ছেলের এমন খবরে সচিবালয়েই নিজের অফিসে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পরিচিত অনেকের কাছে ছেলেকে উদ্ধারের সহায়তা চান শামীম আহমেদ। ফোন করেন পরিচিত অনেকের কাছে। তবে অফিস থেকে বের হতেই দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বের হচ্ছেন। প্রটোকল ভেঙেই তার কাছে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আটকে দেয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন শামীম।
এমন দৃশ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। নিরপত্তাকর্মীদের দিয়ে শামীম আহমেদকে কাছে ডেকে নেন তিনি। ছেলে অপহৃত হওয়ার বিষয়টি জানামাত্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান প্রধানমন্ত্রী। নড়েচড়ে বসে ডিএমপি। দুই ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত ছাত্র আফফান সাঈদকে ঢাকার চামেলীবাগের একটি সাততলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদের নেৃত্বত্বাধীন টিম। স্বস্তি ফিরে আসে ভুক্তভোগী পরিবারে।
আফফান সাঈদের বাবা শামীম আহমেদ বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদক্ষেপ না নিলে হয়তো আমার সন্তানকে এভাবে ফিরে পেতাম না। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিছু সময় পর আমার শ্যালককে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দিতে বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে। পুলিশ কিংবা কাউকে জানালে আফনানকে মেরে ফেলা হবে বলে জানায়।’
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টির তদারকি করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধার করতে পারায় অনেক ভালো লাগছে।’
কারা অপহরণ করেছিল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অপহরণকারীরা ওই এলাকারই ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবী। বিষয়টি আমরা আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। আরও কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’