নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৮:২২
ভোটগ্রহণ শেষে বিশৃঙ্খলা হলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কিছু কর্মী ও সমর্থকরা মিলে মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শাখায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তার ভোটার ও সমর্থকদের শারীরিকভাবেও নাজেহাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলের আমির ও ঢাকা ১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, ভোট শেষ হওয়ার পরে ভোট গণনার সময়ও এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পার। যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়, তাহলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে নির্বাচনী ক্যাম্পে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে এই নির্বাচনের প্রথম ভাগেই আমার ভোটটি মণিপুর বালক উচ্চবিদ্যালয়ে প্রদান করেছি। আমি তখন স্বাভাবিক অবস্থা সেখানে বিরাজমান দেখেছি এবং ভোটার উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। এরপরে আমি ক্রমান্বয়ে অনেকগুলো সেন্টার দেখার চেষ্টা করেছি। আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি, দুই-একটা সেন্টার ছাড়া বাকি সেন্টারগুলোতে ভোটার টার্নওভার ছিল খুবই সন্তোষজনক।’
তবে মণিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালিকা শাখা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই কেন্দ্রের একটি ভবনেই ২৬ হাজার ভোট রয়েছে। সেখানে হঠাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কিছু লোক বেপরোয়াভাবে ঢুকে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি জামায়াতের ভোটার ও সমর্থকদের শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়ে দেখলাম সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে বিষয়টি হ্যান্ডেল করছেন। আমি তাকে বলেছি, ভোট আওয়ার শেষ হওয়ার পরে যেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে। বাইরেও যাতে অহেতুক জটলা বা টেনশন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’
দেশের অন্যান্য স্থানের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপিদলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা কুমিল্লার বরুড়া, লাকসাম ও ভোলার লালমোহনসহ বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি করেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
দুপুর পর্যন্ত ভোট পড়ার হার (৩৩ শতাংশ) নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ভালো ভোট পড়বে। জয়ের ব্যাপারে তিনি ভোটারদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই আজকে বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা আশা রাখি। এই জাতি জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা সেটাকে সম্মান করে। যারা শহীদ, যারা বেঁচে আছে– তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আমরা সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার সাজিয়েছি।”