কোনাবাড়ী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:১২:২৬
কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠান লে-অফ বর্ধিত ঘোষণা
ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার জরুনে অবস্থিত কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ কারখানার মূল ফটকে টানানো হয়। লে-অফের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।
কেয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১২ অনুযায়ী গত ৬ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সম্ভাব্য ৩৫ দিনের জন্য লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবে এখনো পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আগামী ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আরও সাত দিনের জন্য লে-অফের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। লে-অফ চলাকালে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা প্রদান করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৬ অনুযায়ী যেসব শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন, তারা সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে লে-অফের দিনগুলোর জন্য আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন।
এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পুনরায় কাজে যোগদানের বিষয়ে যথাসময়ে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রায় ১৫ মাসের বকেয়া বেতন পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। কারখানার বর্তমান অবস্থায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একদিকে বাসাভাড়া, অন্যদিকে দোকানের বাকি এবং সন্তানদের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না। কবে বকেয়া বেতন পাব, সে বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন (পিপিএম) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে গত ৬ জুন থেকে লে-অফ কার্যকর করা হয়। পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ১৭ জুলাই পর্যন্ত লে-অফের মেয়াদ বাড়িয়েছে।”