কালকিনি মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬ রাত ০৭:৩৪:১৫
ডিভোর্সের পর কন্যাশিশুকে সড়কে ফেলে গেলেন বাবা-মা, উদ্ধার করলেন স্থানীয়রা
মাদারীপুর শহরের লেকপাড় (চৌরাস্তা) এলাকায় বিবাহবিচ্ছেদ-পরবর্তী পারিবারিক বিরোধের জেরে তিন বছরের এক কন্যাশিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের পর শিশুটিকে নিয়ে তার মা মাদারীপুর লেকপাড় এলাকায় সন্তানের বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে বাবার কাছে রেখে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে মা শিশুটিকে জোরপূর্বক বাবার কাছে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে শিশুটির বাবা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এতে অবুঝ শিশুটি দীর্ঘ সময় সড়কের পাশে একা পড়ে থাকে।
রোববার (২৮ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শিশুটির কান্না শুনে স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তারা শিশুটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখেন। শিশুটির নাম জানতে চাইলে সে ভয় ও আতঙ্কে নিজের নামও স্পষ্টভাবে বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, "এখন পর্যন্ত শিশুটিকে আমাদের কাছে আনা হয়নি। বিষয়টি আমাদের কাছে এলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, কোনো অবস্থাতেই একটি নিরীহ শিশু বাবা-মায়ের বিরোধের বলি হতে পারে না। সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা বাবা-মা উভয়েরই আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব।
আইনজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের ভরণপোষণ, নিরাপত্তা ও যথাযথ লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মা উভয়ের ওপরই বর্তায়। কোনো শিশুকে পরিত্যাগ করা বা অবহেলার মধ্যে ফেলে রাখা শিশু আইন, ২০১৩-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দেশে ক্রমবর্ধমান পারিবারিক অস্থিরতা, দাম্পত্য কলহ, আর্থিক সংকট, মানসিক অপরিপক্বতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবের কারণে বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। এসব ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠছে শিশু, যা তাদের মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা, ভরণপোষণ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, বিবাহবিচ্ছেদ যদি অনিবার্যও হয়, তবে তার নিষ্ঠুর প্রভাব যেন কোনোভাবেই নিরীহ সন্তানের জীবনে না পড়ে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগেই এ ধরনের অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।