কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:১৩:০৯
কালকিনিতে নিজ অর্থে রাস্তা সংস্কার করে প্রশংসায় সমাজসেবক বাদল তালুকদার
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার একটি বেহাল গ্রামীণ রাস্তা নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করে স্থানীয়দের প্রশংসায় ভাসছেন সমাজসেবক আলহাজ বাদল তালুকদার। তার এ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি পেয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের সমিতির হাট থেকে মহরদ্দিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের হাবি কাজীর বাড়ির সামনের প্রায় ১০০ মিটার অংশে সংস্কার কাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ দেখা দিত। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের যাতায়াতে ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেন সমাজসেবক আলহাজ বাদল তালুকদার। সরকারি বরাদ্দ বা অনুদানের অপেক্ষা না করে তিনি নিজের অর্থায়নে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী এনে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী ওসমান বলেন, “রাস্তাটির কারণে আমাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যেত। রিকশা-ভ্যান পর্যন্ত চলতে চাইত না। বাদল ভাই নিজ খরচে রাস্তা সংস্কার করে দিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
সমাজসেবক আলহাজ বাদল তালুকদার বলেন, “আমি কোনো প্রচার বা প্রশংসার জন্য এ কাজ করিনি। প্রতিদিন ছোট ছোট শিক্ষার্থী, অসুস্থ মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের এই রাস্তায় কষ্ট করতে দেখতাম। বিবেকের তাড়না থেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের সামর্থ্যবানদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত।”
রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই এ উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। তাদের মতে, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ এলাকার জনদুর্ভোগ নিরসনে এভাবে এগিয়ে এলে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।