রাজিব মাহমুদ, সাভার প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬ রাত ১০:০৬:৪৩
সাভারে ভিক্ষুকের জমানো দেড় লাখ টাকা ছিনতাই, থানায় লিখিত অভিযোগ
ভুক্তভোগী নূর আলম জানান, প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বরিশাল থেকে সাভারে আসেন। শুরুতে সবজির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করলেও তিন বছর আগে স্ট্রোক করার পর তিনি কর্মক্ষমতা হারান। একপর্যায়ে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবিকার তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিন ভিক্ষা করে পাওয়া অর্থ স্থানীয় এক মুদি দোকান মালিকের কাছে জমা রাখতেন। এভাবে তিন বছরে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। কোরবানির ঈদের পর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। সেই উদ্দেশ্যে গত ৩১ মে জমানো টাকা দোকান মালিকের কাছ থেকে ফেরত নেন।
নূর আলমের অভিযোগ, টাকা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে নেশাগ্রস্ত শামীম নামে এক যুবক তাকে ভাত খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নেয়। পরে সুযোগ বুঝে তার কাছ থেকে সব টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় বসবাসকারী নূর আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি না খেয়ে, কষ্ট করে ভিক্ষা করে টাকা জমিয়েছি। তিন বছরের কষ্টের সব সঞ্চয় এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।”
স্থানীয় মুদি দোকান মালিক লিটন জানান, নূর আলম নিয়মিত তার কাছে ভিক্ষার টাকা জমা রাখতেন। গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে তিনি পুরো অর্থ বুঝিয়ে দেন। পরে শুনেছেন, বাসায় ফেরার পথে এক যুবক প্রতারণার মাধ্যমে তার টাকা নিয়ে গেছে।
প্রতিবেশী নাজমা বেগম বলেন, “নূর আলম দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলেন। সেদিন টাকা নিয়ে বাসায় ফেরার সময় শামীম নামে এক যুবক তাকে অনুসরণ করে এবং পরে ভাত খাওয়ানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয়।”
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে পলাতক। তবে তার বাবা শাহ আলম ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা পরিশোধের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”