ইউনুছ আলী, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৪:৫৬
২ বছরেও চালু হয়নি যাদুরচর ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
২ বছর ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত প্রায় ৬০ হাজার পরিবার। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে গেলে এসব তথ্য জানা যায়।
যাদুরচর এলাকাবাসী স্বাস্থ্যসেবা পেতে ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে হচ্ছে ইউনিয়নবাসীকে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করে চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি তাদের।
প্রায় দুই বছর থেকে ওই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। আতিক মাসুদ নামের একজন ফামার্সিস্ট নিয়মিত অফিস করার নিয়ম থাকলেও তিনি সেখানে বসেন না এবং কোন ধরনের ঔষুধ সরবরাহ করা হয় না। অপরদিকে দুই বছর আতিক মাসুদ ওই কোয়াটারে অবৈধভাবে বসবাস করছেন।
স্থানীয়রা জানায়, আধুনিক সেবা পেতে তাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলায় আসতে হয়। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হয় সেবাপ্রত্যাশীরা। খরচ হয় বাড়তি অর্থ। জরুরি প্রয়োজনে সেবা নিতে এসে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় আবার অনেকে ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, আগে সপ্তাহে চার-পাঁচ দিন আমরা সেবা পেতাম। কিন্তু ২ বছর ধরে সেবার কার্যক্রম একেবারে বন্ধ রয়েছে। আমাদের বাইরে থেকে ঔষুধ কিনে নিতে হয়। এতে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সরবেশ আলী বলেন, ২ বছর থেকে কেনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রেটি বন্ধ রয়েছে জানি না। আমার এই ইউনিয়নে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার লোকের বসবাস। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় ইউনিয়নবাসীর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। এর আগে সেবা চালু রাখতে আমার পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলেছিলাম। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে বার বার জানানোর পরও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও কর্মকর্তা ডা.আব্দুস সামাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জনবল সংকটের কারণে আপাতত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। সংকট নিরসন হলেই চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসাসহ দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এবিষয়ে জানার জন্য কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।