নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৬:০৭:০২
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়ল
ইরানি হামলায় কাতার বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানোর পর আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
তেহরান গতকাল বুধবার ইরানের 'সাউথ পার্স' গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কাতারের বিশাল 'রাস লাফান' এলএনজি কেন্দ্রে হামলা চালায়। এর ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম লাফিয়ে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাউথ পার্স (যা বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডারের অংশ) ফিল্ডে হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন আগে থেকে জানত না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি কাতারে হামলা বন্ধ না করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইরানের ওই গ্যাস ফিল্ডটি ‘উড়িয়ে দেবে’।
কাতার হলো যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং রাশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এলএনজি উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি এবং এর রাস লাফান স্থাপনাটি বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি হাব।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি বারবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন 'কাতারএনার্জি' আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দুই দফা ইরানি হামলায় বেশ কয়েকটি এলএনজি স্থাপনায় বিশাল অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানি হামলার হুমকিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আগে থেকেই বাড়ছিল। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই সমুদ্র পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল মজুত কেন্দ্র বা পরিবহন নয়, সরাসরি উৎপাদন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা পরিস্থিতিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার একে একটি ‘বেপরোয়া উত্তেজনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে এই যুদ্ধের প্রভাব হবে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী। তিনি এই বিষয়ে মার্কিন এবং ইরানিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।