নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১২:০৭:৪৬
সংবিধান অবশ্যই সংস্কার করা যাবে, স্পিকার গঠিত বিশেষ কমিটি তা ঠিক করবে: ড. খন্দকার মারুফ হোসেন
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন,"সংবিধান অবশ্যই সংস্কার করা যাবে। সেটি করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবেন মাননীয় স্পিকার। সেই কমিটি বসে ঠিক করবে কোন কোন অনুচ্ছেদ সংশোধিত হবে। তবে রাষ্ট্রপতির অসাংবিধানিক ‘আদেশ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নয়।"
মঙ্গলবার (১ মার্চ) তার ভেরিফাই ফেসবুক পেইজে এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন।
ড.খন্দকার মারুফ হোসেন পোস্টে লিখেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সাধারণভাবে ‘আদেশ’ জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তবে সংসদ অধিবেশন না থাকলে সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি ‘অধ্যাদেশ’ জারি করতে পারেন। এই বিধান ব্যবহার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছেন।
কিন্তু ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ কোন আইনের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের আগে—১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ‘আদেশ’ জারি করতেন। কারণ তখন কোনো সংবিধান কার্যকর ছিল না। পরে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে একটি সাময়িক ব্যবস্থা রাখা হয়। সেখানে বলা হয়, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর সংসদের প্রথম বৈঠক পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে) ‘আদেশ’ জারি করে আইন করতে পারবেন।
কিন্তু একই তফসিলে আবার পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে—সংসদের প্রথম বৈঠকের পর এই ক্ষমতা আর থাকবে না। সেই প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ সালে। অর্থাৎ ওই তারিখের পর থেকে রাষ্ট্রপতির ‘আদেশ’ জারি করার ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়।
এরপর গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো রাষ্ট্রপতি ‘আদেশ’ জারি করেননি। ফলে বর্তমান সংবিধান কার্যকর থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির এ ধরনের ‘আদেশ’ জারি করার সুযোগ নেই।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে। তাই এটি কার্যকর করতে আলাদা সংসদ অধিবেশন ডাকারও কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।
সারকথা হলো—রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন; তাঁর সব ক্ষমতাই সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত ও সীমাবদ্ধ।
তবে সংবিধান অবশ্যই সংস্কার করা যাবে। সেটি করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবেন মাননীয় স্পিকার। সেই কমিটি বসে ঠিক করবে কোন কোন অনুচ্ছেদ সংশোধিত হবে। তবে রাষ্ট্রপতির অসাংবিধানিক ‘আদেশ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নয়।